West Bengal Madhyamik Class 10th Bengali Koni Question and Answer
1 min read

West Bengal Madhyamik Class 10th Bengali Koni Question and Answer

Spread the love

কোনি (সহায়ক পাঠ) মতি নন্দীমাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর | West Bengal Madhyamik Class 10th Bengali Koni Question and Answer

Table of Contents

1. বারুণীর দিন গঙ্গার ঘাটের দৃশ্য বর্ণনা করো  

Ans: ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের শুরুতেই আমরা গঙ্গা ঘাটের এক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করি । হিন্দুদের একটি ধর্মীয় উৎসব ‘ বারুণী ‘ । সেদিন গঙ্গায় পুজো দিয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে কাঁচা আম উৎসর্গ করা হয় । এদিন গঙ্গার ঘাটে লোক থিক থিক করে । পুণ্যার্থীরা জলে ডুব দিয়ে কাঁচা আম উৎসর্গ করেন আর একদল ছেলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেই আম সংগ্রহ করে বাজারে বাঞ্ছণীয় দিনের গঙ্গার ঘাটের বর্ণনা কম দামে বিক্রি করে । গঙ্গা স্নানাস্তে পুণ্য অর্জনের পর বেশ কিছুটা পথ কাদা মাড়িয়ে যখন পুণ্যার্থীদের ডাঙায় আসতে হয় তখন লোকমুখে দেখা যায় একরাশ বিরক্তি । পুণ্যার্থীদের অনেকে ঘাটের মাথায় কিংবা ট্রেন লাইনের দিকে মুখ করে বসে থাকা বামুনের দিকে যায় কেন – না তারা পয়সার বিনিময়ে কাপড় – জামা রাখে , গায়ে মাখা তেল দেয় , কপালে চন্দনের ছাপ ইত্যাদি দেয় । পুণ্যার্থীরা রাস্তার ধারে দেবদেবীর মাথায় জল ঢালতে ঢালতে বাড়িমুখো হয় । পথে বাড়ির জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনে । এমনকি তারা থোড় , ওল , কলা বা লেবু ইত্যাদিও কেনে এবং গরম রাস্তায় পা ফেলে অত্যন্ত দ্রুতপদে বাড়ির দিকে রওনা দেয় ।

2. ‘ কোনি উপন্যাসের নামকরণ কতখানি সার্থক হয়েছে , আলোচনা করো

Ans: ‘ নামকরণের সার্থকতা ‘ অংশটি দ্যাখো ।

3. বিচরণ ধরের পরিচয় দাও তার খাদ্যাভ্যাসের বিবরণ দাও  

Ans: কোনি ‘ উপন্যাসে গঙ্গার ঘাটে ক্ষিতীশের চোখে পড়ে বিশাল বপুর এই বিষ্টুচরণকে । অত্যন্ত বনেদি বংশের আই এ পাস করা ছেলে বিষ্টুচরণ হল পাড়ার সকলের বেষ্টাদা । সে বনেদিয়ানা ও অর্থের জন্য পাড়ায় বেশ মান্যগণ্য । তার সাতটা বাড়ি , বড়োবাজারে ঝাড়াই মশলার বিচ্ছু ধরের পরিচয় বিশাল ব্যাবসা । ইদানীং সে ভোটে দাঁড়াবার একটা গোপন সদিচ্ছা মনে মনে পোষণ করে পাড়ার যে – কোনো খেলাধুলো বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির পদ অলংকৃত করে থাকে এবং নানানভাবে আর্থিক সাহায্যও করে । তার সাড়ে তিন মন দেহটাকে বয়ে নিয়ে এদিক – ওদিক করে তার পুরোনো একটা অস্টিন । তার একটি বিশেষ শখ হল গঙ্গার ঘাটের মালিশওয়ালাদের দিয়ে মালিশ করানো । 

  → বিচরণের ওজন সাড়ে তিন মন হওয়াতে তিনি খুবই চিন্তিত হয়ে ডায়েটিং শুরু করেছে । অদ্ভুত তার এই ডায়েটিং । আগে যেখানে সে খাদ্যাভ্যাসের বিবরণ জলখাবারে প্রতিদিন কুড়িটা লুচি ও আধকিলো ক্ষীর খেত এখন তা নেমে এসেছে পনেরোটা লুচি ও তিনশো গ্রাম ক্ষীরে । দুপুরে আড়াইশো গ্রাম চালের ভাতের সঙ্গে চার চামচ ঘি । বিকেলে দু – গ্লাস মিছরির শরবতের সঙ্গে কড়াপাকের সন্দেশ চারটে । রাতের খাবার বলতে মাত্র বারোটা রুটি । মাছ – মাংস অবশ্য খায় না ।

4. ইচ্ছাশক্তি সম্বন্ধে ক্ষিতীশের মতামত ব্যাখ্যা করো ক্ষিতীশ কীভাবে নিজের ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দিয়েছিল ?

Ans: কোনি ‘ উপন্যাসের ক্ষিতীশ ছিলেন প্রবল ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন এক ব্যতিক্রমী চরিত্রের মানুষ । তিনি ছিলেন সাঁতার অন্ত প্রাণ । তিনি একটা নিজস্ব জগৎ গড়ে তুলেছিলেন , যার মধ্যেই তিনি বিচরণ করতেন । শক্তি বলতে তিনি কেবল দৈহিক ইচ্ছাশক্তি সম্বন্ধে ক্ষিতীশের মতামত শক্তিকেই ভাবতেন না , তাঁর মতে , মানসিক ও ইচ্ছাশক্তির জোরই বেশি । এর সাহায্যে মানুষ সব কিছুই করতে পারে , এমনকি শারীরিক অক্ষমতা ও দুর্বলতাকে অতিক্রম পর্যন্ত করতে পারে । শরীরকে দিয়ে ক্ষমতার চেয়ে বেশি কাজ করিয়ে নেয় ইচ্ছাশক্তি । তাই বলে শরীরকে অবহেলা করলে চলবে না । শরীর ও মন পরস্পরের পরিপূরক । মনই শরীরকে নির্দেশ দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় । 

  বিষ্টুচরণের কাছে ক্ষিতীশ ইচ্ছাশক্তির প্রাবল্য বোঝাবার জন্য নিজের ডান কনুইটা শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে পিস্তল ধরার মতো হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে তা বিষ্টুচরণকে নামাতে বলেন । বিস্টুচরণ তার সাড়ে তিন মন ওজন নিয়ে ক্ষিতীশের শুকনো শিকড়ের মতো হাতের কবজি ধরে নীচের দিকে নামাতে বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় । শেষপর্যন্ত নিজের সর্বশক্তি দিয়ে প্রাণান্তকর পরিশ্রমের পর গলদঘর্ম হলেও ক্ষিতীশের হাত কিন্তু একইরকম অনড় থাকে । ক্ষিতীশের ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ ছিল এটাই ।

5. ‘ আপনি নিজের শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না বক্তা উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে এমন কথা বলেছেন কেন ? শরীরটাকে চাকর বানানো বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন

Ans: মতি নন্দীর লেখা ‘ কোনি ‘ উপন্যাসে ক্ষিতীশ , বিষ্টুচরণ ধরকে এমন কথা বলেছেন । কারণ ক্ষিতীশ বয়সে পঞ্চাশোর্ধ্ব হওয়া সত্ত্বেও ব্যায়াম ও সংযমের মাধ্যমে নিজের শরীরকে সক্ষম রেখেছেন । তিনি এখনও দৌড়োতে পারেন , সিঁড়ি দিয়ে স্বচ্ছন্দে ওঠা – নামা করতে পারেন , এমনকি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শরীরের কোনো অঙ্গকে অনড় করে রাখতে পারেন । উলটোদিকে , বিষ্টুচরণ অগাধ অর্থের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসচেতন না হওয়ার কারণে দৈহিকভাবে দুর্বল । অপরিমিত খাদ্যাভ্যাস তার দেহের ওজন বাড়িয়েছে , কিন্তু তার মনের জোর কমিয়ে দিয়েছে । কারণ শরীর আসলে তার মনের কথা শোনে না । বানানো শরীরটাকে চাকর বানানোর অর্থ হল , মনের নির্দেশে শরীরের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত হওয়া । ক্ষিতীশের মতে , লোহা চিবিয়ে খেয়েও যদি পাকস্থলীকে মন হজম করার আদেশ দেয় , তবে সে তাই করবে । মন যদি পা – কে পাঁচ মাইল হাঁটার নির্দেশ দেয় , পা জোড়া অমনি পৌঁছে দেবে । বয়স হলেও গাছের ডাল ধরে ঝুলে থাকার শখ হলে , হাত দুটো সে হুকুম তালিম করবে । শরীরটাকে চাকর বানানো বলতে ক্ষিতীশ শরীরের ওপর মনের এই আশ্চর্য । নিয়ন্ত্রণকেই বুঝিয়েছেন ।

6. ‘ মা গঙ্গাকে উচ্ছৃন্নো করা আমই রাস্তায় বসে বেচবে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো  

Ans: মতি নন্দী রচিত ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে গঙ্গার ঘাটে স্নানরত এক বৃদ্ধের মুখে এই উক্তি শুনতে পাওয়া যায় । বারুণী উৎসবে মা গঙ্গাকে যে কাঁচা আম উৎসর্গ করা হয়ে থাকে , নিম্নবিত্ত পরিবারের কিছু ছোটো ছেলে সেগুলি সংগ্রহ করে ও কম দামে বাজারে বিক্রি করে । আম সংগ্রহ করা নিয়ে তাদের মধ্যে ছোটোখাটো গণ্ডগোলও বেধে থাকে । এমনই এক পটভূমিকায় কোনিকে প্রথম দেখেছিল ক্ষিতীশ । কোনি এবং তার বন্ধুদের বিবাদ লক্ষ করেই বৃদ্ধের এই উক্তি । গঙ্গায় স্নানরত বৃদ্ধের উক্তির মধ্যে দু – ধরনের মানসিকতা লক্ষ করা যায় । প্রথমত , বর্ণ হিন্দু অভিজাত দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনি – সহ নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের নীচু দৃষ্টিতে দেখা হয় । 

  দ্বিতীয়ত , কোনি মেয়ে হয়ে অন্য ছেলেদের সঙ্গে মারামারি করে বেড়াচ্ছে দেখে তাৎপর্য পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভৎসনার সুর ধ্বনিত হয়েছে । এই দুই ক্ষেত্রেই সামাজিক সংস্কার বৃদ্ধের মনে বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে । লেখক বৃদ্ধের মুখে এই উক্তিটুকু বসিয়ে সমকালীন সামাজিক পরিস্থিতির একটা হদিস দিতে চেয়েছেন । অন্যদিকে , হিন্দুধর্মে দেবী বলে পুঁজিতা গঙ্গাকে উৎসর্গ করা আম পুনরায় বিক্রি করার মধ্যে হিন্দুধর্মের পাপপুণ্যের যে ধারণা রয়েছে , তাকেও এখানে তুলে ধরা হয়েছে ।

7. ক্ষিতীশের বাড়িটির বর্ণনা দাও তার শোয়ার ঘর তার পাশের ঘরটি কীরুপ ছিল ?

Ans: গঙ্গা থেকে মিনিট পনেরোর দূরত্বে সরু গলির মধ্যে ক্ষিতীশের একতলা টালির চালের বাড়ি । বাড়ির সদর দরজার পরই মাটির উঠোন । উঠোনের যা আয়তন , তাতে টেনেটুনে একটি ভলিবল কোর্ট তাতে ধরে যায় । উঠোনে লঙ্কা , পেঁপে , চালকুমড়ো ইত্যাদি ক্ষিতীশের বাড়ির আনাজ ও জবাফুলের গাছে ভর্তি । একদিকে টিনের বর্ণনা চালের রান্নাঘর ও কলঘর , অন্যদিকে দালান ও তার পিছনে দুটি ঘর । চারদিকের উঁচু বাড়িগুলির মধ্যে এই একতলা । বাড়িটিকে খুব শান্ত দেখায় । উত্তর দিকের উঁচু বাড়ির মালিক হলধর বর্ধন ক্ষিতীশের বাড়িটি বারবার কিনতে চাইলেও ক্ষিতীশ তাতে রাজি হননি । 

  ক্ষিতীশের শোওয়ার ঘরের দেয়ালে তাঁর বাবা – মায়ের ছবি ছাড়াও ধ্যানমগ্ন মহাদের , কুরুক্ষেত্রে অর্জুনের সারথি শ্রীকৃষ , ম্যাগাজিন থেকে কেটে বাঁধানো মেডেল গলায় ডন শোলান্ডার ও ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দু – হাত তুলে দাঁড়ানো জন ফ্রেজারের ছবি পাশাপাশি টাঙানো । এ ছাড়াও আছে খাট , আলমারি , বাক্স , আলনা এবং নানারকম সাংসারিক জিনিস । তার পাশের ঘরে আছে বই , ম্যাগাজিন , একটা তক্তপোেশ আর তার নীচে ট্রেনিংয়ের জন্য রবারের দড়ি , স্প্রিং ও লোহা ছাড়া তেমন কিছুই নেই । পাখা নেই এবং বিছানাও নেই । এর সাহায্যে সংযমী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ এক মানুষের জীবনের কঠোর নিয়মানুবর্তিতার ছবি ধরা পড়ে ।

8. ‘ ক্ষিতীশ কখনো যজ্ঞিবাড়ির নিমন্ত্রণে যায় না ক্ষিতীশ যজ্ঞিবাড়ির নিমন্ত্রণে যায় না কেন ? বাঙালির খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ক্ষিতীশের মনোভাব ব্যাখ্যা করো

Ans: ক্ষিতীশ নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতা বজায় রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন । বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করে তিনি । ক্ষিতীশের যজ্ঞিবাড়ির পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সেও নিজেকে সুস্থ – সবল নিমন্ত্রণে না – যাওয়ার রেখেছিলেন । তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল কারণ সংযত জীবনযাত্রা । তাই খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও তাঁর এই সংযম ছিল লক্ষণীয় । তাঁর মতে , পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ড . বিধানচন্দ্র রায় বলে গিয়েছিলেন যে , এক একটা বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ খাওয়া মানে এক এক বছরের আয়ু কমে যাওয়া । এই কথাটিকেই ক্ষিতীশ সবচেয়ে খাঁটি কথা বলে মনে করতেন । তাঁর ক্লাবে সাঁতার শিখতে আসা ছাত্রছাত্রীদেরও তিনি এ কথা বারবার মনে করিয়ে দিতেন । তাঁর মতে , শরীরের নাম মহাশয় , যা সহাবে তাই সয় । ” তাই তিনি সন্ত্ৰীক সেদ্ধ খেয়েই জীবনধারণ করতেন এবং কখনোই যজ্ঞিবাড়ির নিমন্ত্রণে যেতেন না । বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের 

  ক্ষিতীশের ধারণা ছিল , বাঙালি রান্নার তেল – ঝাল – মশলায় স্বাস্থ্য সংরক্ষিত থাকে না । এতে পেটের ক্ষতি করে । সেইজন্যই বাঙালিরা শরীরে জোের পায় না , কোনো খেলাতেই বেশি উঁচুতে উঠতে পারে না । এমন খাদ্য খাওয়া উচিত যাতে সর্বাধিক প্রোটিন ও ভিটামিন পাওয়া যায় । তাই ক্ষিতীশ সমস্ত সেদ্ধ করে খাওয়া মনস্থ করেছিলেন ।

9. জুপিটার ক্লাবে চীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কী ছিল ? এগুলির উত্তরে ক্ষিতীশের বক্তব্য কী ছিল ?

Ans: জুপিটারের সাঁতারুরা ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছিল তা সত্য হলেও পিছনে কিন্তু ক্রীড়ারাজনীতির হাত ছিল যথেষ্টই । অভিযোগগুলি হল— > দক্ষ সাঁতারু শ্যামলের সময়কে আমেরিকার বারো বছরের মেয়েদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে জুনিয়রদের কাছে তাকে অপমান করা । 

> গোবিন্দের মতো ব্রেস্ট – স্ট্রোক বেঙ্গল রেকর্ড হোল্ডার ও ন্যাশনালে প্রতিনিধিত্বকারীকে কান ধরে ক্লাব থেকে বের করে দেবার কথা বলা । 

> আর – এক দক্ষ সাঁতারু অসুস্থ সুহাসের বাড়ি গিয়ে তার বাবাকে যা – তা বলা । 

 → দুই মহিলা সাঁতারু অমিয়া ও বেলার পোশাক , চুলকাটা ইত্যাদি নিয়ে খিটমিট করা , তাদের জোর করে ব্যায়াম করানো । 

 → সাঁতারুদের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অর্জনে এবং তাদের মেজাজমর্জি বুঝতে অক্ষমতা । কোনো মেডেল জেতার ইতিহাস না – থাকা । 

  → সকল অভিযোগের জবাবে ক্ষিতীশ জানান পঁয়ত্রিশ বছর জুপিটারের সঙ্গে যুক্ত থেকে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ক্লাবের গৌরব বৃদ্ধি । ক্লাবের গৌরব অভিযোগের প্রত্যুত্তরে দ্বিতীশের বক্তব্য বাড়ায় যে খেলোয়াড়রা , তাদের পারফরমেন্সের উন্নতির জন্য তিনি প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে রুঢ় ব্যবহার করেন । সাঁতারে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেলেও ভারতের তথা বাংলার সাফল্য অনেক পিছিয়ে । শৃঙ্খলাপরায়ণ , আদর্শবান ও দৃঢ়চেতা ক্ষিতীশ আসলে খেলোয়াড় জীবনে শৈথিলা পছন্দ করতেন না ।

10. ‘ কী আবার হবে , ছেড়ে দিলুম / বস্তু এখানে কী ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন ? এর অন্তর্নিহিত কারণ বিশ্লেষণ করো

Ans: উদ্ধৃতিটির বক্তা ক্ষিতীশ । তিনি ছিলেন জুপিটার ক্লাবের সাঁতারের চিফ ট্রেনার । ক্লাবের সভায় তাঁর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে তাঁকে অপমান করায় তিনি ওই পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন ।

   ক্ষিতীশের জুপিটারের চিফ ট্রেনার পদ ছেড়ে দেওয়ার একটি কারণ যদি হয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বনিবনার অভাব তবে অন্যটি অবশ্যই । কলকাতার ক্রীড়াজগতের ঘৃণ্য ক্রীড়ারাজনীতি । এক্ষেত্রে হরিচরণের চিফ ট্রেনার হওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে ক্ষিতীশের বিপক্ষে নিয়ে যায় । জুপিটারের সঙ্গে ক্ষিতীশের ছিল নাড়ির টান । তিনি চাইতেন জুপিটার হোক ভারতসেরা আর তার জন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি একটা জেদি মনোভাব গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন । কেননা তিনি বিশ্বাস করতেন ইচ্ছাশক্তি ও প্রচেষ্টার জোরে মানুষ সব অর্জন করতে পারে । শৃঙ্খলাপরায়ণ , আদর্শবান ও দৃঢ়চেতা ক্ষিতীশ খেলোয়াড়দের জীবনে শৈথিল্য পছন্দ করতেন না । কিন্তু ক্লাব নিয়ে ক্ষিতীশের অনুভূতির সঙ্গে ক্লাব – সদস্য ও খেলোয়াড়দের অনুভূতির পার্থক্য গড়ে উঠেছিল বিস্তর , তাই ক্ষিতীশ একপ্রকার বাধ্য হয়েই ইস্তফা দিয়েছিলেন ।

11. ক্ষিতীশ এইসব অপচয় দেখে বিরক্তি বোধ করে এখানে এইসব অপচয় বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? বিরক্তি বোধ করার মধ্যে ক্ষিতীশের কোন মানসিকতার পরিচয় ফুটে ওঠে

Ans: এইসব অপচয় ‘ বলতে ‘ কোনি ‘ উপন্যাসে জুপিটার ক্লাবের চিফ ট্রেনার ক্ষিতীশ মানুষের শক্তি বা সামর্থ্যের অপচয়ের কথা বলেছেন । তাঁর মতে চিরাচরিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এইসব অপচয় ক্রীড়াক্ষেত্রের বাইরে যেসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় , তাতে মানুষের সহ্যশক্তি ও একগুঁয়েমির পরীক্ষা হয় আর সবশেষে থাকে যশের মোহ । এতে খেলাধুলোর কোনো উন্নতি হয় না । শক্তির অপব্যবহার হয় বলেই ক্ষিতীশ এই অনুষ্ঠানগুলিকে ‘ অপচয় ‘ বলেছেন । 

ALSO READ :  Madhyamik 2024 Question Format & Marks Distribution – Download Model Question Paper

  ক্ষিতীশের মানসিকতা ‘ বিরক্তি বোধ ’ করার মধ্যে দিয়ে ক্ষিতীশের দেশের প্রতি আন্তরিকতা ও চিরাচরিত খেলার প্রতি আস্থা প্রকাশিত হয়েছে । ক্ষিতীশের মতে , যে শক্তি বা সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে খেলাধুলোয় দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা যেতে পারে , নিজের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে , সেই শক্তিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রেকর্ড ও গৌরববৃদ্ধির জন্য ব্যয় করা অপব্যয়েরই নামান্তর । তাঁর মতে , একজন আদর্শ ক্রীড়াবিদ শৃঙ্খলাবদ্ধ ট্রেনিং , বুদ্ধি ও টেকনিককে কাজে লাগিয়ে নিজের সঙ্গে সঙ্গে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে এটাই কাম্য । একটানা কুড়ি ঘণ্টা হাঁটা বা নব্বই ঘণ্টা একনাগাড়ে সাঁতার কেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রয়াস আসলে পেশিশক্তির আস্ফালন মাত্র , এতে মানুষের শক্তির অপব্যবহারই হয় । 

12. কোনি ক্ষিতীশ একে অপরের পরিপুরক আলোচনা করো  

অথবা , কোনি ক্ষিতীশ দুটি চরিত্র কোনি উপন্যাসে প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠেছে কিনা আলোচনা করো  

অথবা , ক্ষিতীশের ঘরের দেয়ালে টাঙানো অর্জুন তার সারথি কৃষ্ণের যে ছবি , তার অন্তর্নিহিত অর্থটি বুঝিয়ে দাও  

অথবা , ক্ষিতীশের ঘরের দেয়ালে টাঙানো অর্জুন সারথি কৃষ্ণের ছবিটি কীভাবে কোনি উপন্যাসে উপমায়িত হয়েছে , তা বুঝিয়ে দাও  অথবা , কোনি ক্ষিতীশ দুটি চরিত্রকেই কোনি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বলা যায় কিনা , আলোচনা করো

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের নামকরণ কোনির নাম অনুযায়ী হলেও এ কথা অনস্বীকার্য যে , প্রধান বা কেন্দ্রীয় চরিত্র বলতে যা বোঝায় , তার উপাদান কোনি ও ক্ষিতীশ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে । ক্ষিতীশ একজন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাঁতার প্রশিক্ষক , যে ভাঙে তবু মচকায় না । ‘ হেরে যাওয়া ’ বা ‘ হাল ছাড়া ’ শব্দবন্ধটি ক্ষিতীশের অভিধানে নেই । জুপিটার ক্লাবে পঁয়ত্রিশ বছর কাটানোর পরও যথাযোগ্য সম্মান বা সুযোগ্য শিষ্য – কোনোটির খোঁজই তাঁর শেষ হয়নি । ছাত্রদের কাছে যে আত্মনিবেদন তিনি প্রত্যাশা করেন , তা জীবনের পঞ্চাশ ভাগ কাটিয়ে ফেলার পরেও তিনি পাননি । উলটোদিকে , কোনি একজন সাধারণ মেয়ে , যার মধ্যে ছিল ঔদ্ধত্য , একগুঁয়েমি ও প্রতিশোধস্পৃহা । এগুলি সাধারণের দৃষ্টিতে দোষ বলে বিবেচিত হলেও ক্ষিতীশের জহুরির চোখ তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নকে চিনে নিতে ভুল করেনি । কাহিনি যতই এগোতে থাকে ক্রমশ কোনির উত্থান , ক্ষিতীশের শক্ত হাতে প্রশিক্ষণ , কোনির প্রতিশোধস্পৃহা , ক্ষিতীশের হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া , ক্ষিতীশের ঘরের দেয়ালে টাঙানো অর্জুন ও তার সারথি কৃষ্ণের ছবির অন্তর্নিহিত অর্থটা ধীরে ধীরে পাঠকের সামনে স্পষ্ট করে তোলে । অবশেষে ক্ষিতীশের অব্যক্ত যন্ত্রণারূপে কোনির অস্তিত্বে মিশে যাওয়া আর গুরু – শিষ্যের সাফল্য কাহিনিটিকে পরিপূর্ণতা দান করে ।

13. কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও

Ans: কোনি ‘ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘ কোনি ‘ ওরফে কনকচাপা পাল সাত ভাই – বোন ও মা – সহ শ্যামপুকুর বস্তির এঁদোগলিতে বাস করে । বাবা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন আগেই মারা গেছে । মেজো ভাইও মারা গেছে । সেজো ভাই পিসিমার বাড়িতে থাকে । কোনির পরও দু – বোন ও এক ভাই আছে । পরিবারে বড়ো হিসেবে সংসারের দায়িত্ব কোনির দাদা কমলের ওপর । ভালো সাঁতারু হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার , কিন্তু সে আশা অচিরেই হারিয়ে গেছে । বাবার মৃত্যুর পর সে এখন মোটর গ্যারেজের দেড়শো টাকা মাইনের কর্মচারী । সম্প্রতি সংসারের প্রয়োজনে এক ভাইকে কমল পনেরো টাকা মাইনেতে চায়ের দোকানে কাজে লাগিয়েছে । সাংসারিক অভাব সামাল দেওয়ার জন্য কোনিকেও সুতো কারখানায় ষাট টাকা মাইনেতে কাজে লাগাবার কথা ওঠে । বারুণী উৎসবের উৎসর্গীকৃত আম সংগ্রহের জন্য কোনিদের সংগ্রাম আসলে তাদের প্রকৃত জীবনসংগ্রামকেই তুলে ধরেছে । পরবর্তীতে ক্ষিতীশ কোনির সব দায়িত্ব – সহ সাঁতার শেখানোর ভার নেন এবং তার মা – কেও একটা কাজ জোগাড় করে দেন ।

14. ‘ হঠাৎ কোনির দু চোখ জলে ভরে এল কোনির দু চোখ জলে ভরে ওঠার কারণ কী ? এরপরে কী ঘটেছিল ?

Ans: রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় একদিকে যেমন বালিগঞ্জ ক্লাবের অভিজাতবংশীয়া হিয়া মিত্র অংশগ্রহণ করেছিল , অন্যদিকে তেমনই ছিল শ্যামপুকুর বস্তির কোনি । সাধারণ সাঁতারু কোনি নিজেকে উজাড় করেও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিয়া মিত্রের সঙ্গে পেরে ওঠেনি । কোনি তার দাদা কমলকে কথা দিয়েছিল কোনির দু – চোখ জলে যে , মেয়েদের মধ্যে সে প্রথম হবেই । সেইজন্য ধার ভরে ওঠার কারণ করেও বারো টাকা দিয়ে কোনিকে কমল একটি কস্টিউম কিনে দিয়েছিল । কোনি নিজের এই পরাজয় ও দাদাকে দেওয়া কথা না – রাখতে পারার বেদনা মেনে নিতে পারেনি । তার ভিতরে এক ধরনের ক্ষোভ ও আক্ষেপ সৃষ্টি হয়েছিল । তাই ক্ষিতীশের স্নেহভরা কন্ঠস্বর ও সাঁতার শেখানোর প্রস্তাব তাকে দুর্বল করে দিয়েছিল । তার অন্তরের সমস্ত ক্ষোভ , লোভ , দুঃখ , অভিমান অশ্রু হয়ে দেখা দিয়েছিল ।

  এরপরেই কোনির জীবনের সবচেয়ে দিশা পরিবর্তনকারী ঘটনা ঘটেছিল । সাদাসিধে পরিবারের কোনি যথেষ্ট ভালো সাঁতার জানলেও , সে কোনোদিন কোনো প্রশিক্ষকের কাছে সাঁতার শেখার পরবর্তী ঘটনা কথা ভাবেনি । কিন্তু তার জীবনের এই পর্যায়ে এসে সে ক্ষিতীশের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রশিক্ষকের কাছে শেখার সুযোগ পায় , যে সুযোগ তাকে শেষপর্যন্ত পৌঁছে দেয় সাফল্যের শীর্ষে ।

15. ‘ একটা মেয়ে পেয়েছি , তাকে শেখাবার সুযোগটুকু দিও তা হলেই হবে বক্তার এমন আকুতির কারণ ব্যাখ্যা করো উদ্ধৃতাংশে বক্তার কোন্ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে ?

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাস থেকে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা জুপিটার ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ পঁয়ত্রিশ বছরে জুপিটারের বস্তার আকৃতির কারণ কাছে প্রাপ্য সম্মান না পেলেও জুপিটারকে দিয়েছেন অনেক কিছু । কিন্তু চক্রান্ত করে তাঁকে চিফ ট্রেনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । শিক্ষানবিশ সাঁতারুদের ক্ষোভকে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের হাতিয়াররূপে ব্যবহার করা হয়েছে । কাঠিন্যের আড়ালে তাঁর স্নেহশীল মনটা ছাত্ররা বুঝতে পারেনি । তাই ক্লাব – অন্ত প্রাণ হয়েও জুপিটার থেকে তাঁকে সরে যেতে হয় । কিন্তু তাঁর আবিষ্কার কোনিকে সাঁতার শেখাতে গেলে চাই একটা সুইমিং পুল । 

 ক্ষিতীশ তাই অ্যাপোলোর প্রেসিডেন্ট নকুল মুখার্জির শরণাপন্ন হন । শুরুতেই তিনি জানিয়ে রাখেন , তিনি অ্যাপোলোর লোক হবেন না । তবে কোনির সব সাফলা হবে অ্যাপোলোর । কোনিকে শেখানোর কোনো অর্থ চাই না – চাই শুধু সুযোগ । উদ্ধৃতিটিতে ক্ষিতীশের যোগ্য সাঁতারু তৈরির উপযুক্ত সুযোগের জন্য আর্তি ফুটে উঠেছে । উদ্ধৃতাংশে বক্তার মনোভাব উদ্ধৃতাংশের মধ্যে আমরা খুঁজে পেয়েছি একজন যোগ্য শিক্ষককে , যিনি যোগ্য শিষ্যের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে পারেন । পরিবর্তে কোনো অর্থ বা খ্যাতি তাঁর কাছে কাম্য নয় । তবে উদ্ধৃতাংশে বক্তার মনোভাবে একজন প্রকৃত গুরুর জেদ ও সাঁতারের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার ছবি ফুটে উঠেছে ।

16. ‘ সাঁতারু অনেক বড়ো সেনাপতির থেকে উক্তিটি কার ? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো  

অথবা , ‘ মেডেল তুচ্ছ ব্যাপার , কিন্তু একটা দেশ বা জাতির কাছে মেডেলের দাম অনেক , হিরোর দাম / – বক্তা কে ? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।

Ans: উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হল সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ । 

  → বিস্টুচরণ ধরের বক্তৃতার ভাষ্য লিখতে গিয়ে ক্ষিতীশ বলেছিলেন যে , মেডেল একটি সামান্য চাকতি মাত্র । মেডেলের চেয়ে মেডেলের প্রাপ্তির পিছনে যে – অক্লান্ত পরিশ্রম থাকে , তার দাম অনেক বেশি । কিন্তু একটা দেশ বা জাতির কাছে মেডেলের তাৎপর্য অনেক বেশি । কারণ এক – একটি মেডেল আসলে এক – একজন নায়ক বা ‘ হিরো ’ – র জন্ম দেয় । সেই হিরো সাঁতারু বা সেনাপতি , যেই হোন না কেন , দেশের নবীন প্রজন্মের কাছে তিনি একটি আদর্শের প্রতীক । সেনাপতি বা সাঁতারু একজন এমন আইকন , যাকে দেশবাসী মনেপ্রাণে অনুসরণ করে । কিন্তু তা হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে । একজন সফল সাঁতারু , জীবন ও প্রাণের প্রতীক , কিন্তু একজন সেনাপতি , মৃত্যু ও ধ্বংসের প্রতীক । সাঁতারুর স্থান তাই সেনাপতির চেয়ে অনেক উপরে । যুদ্ধজয়ী সেনাপতি যেমন মানুষের সমীহ পায় , অন্যদিকে ঘৃণাও পায় । খেলোয়াড় বা সাঁতারুরা সারাপৃথিবীর কাছে কেবলমাত্র আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে জীবিত থাকে । একজন সাঁতারু কেবলই জীবনের উৎসবের জয়গানে ব্যাপৃত থাকে ; সে শতসহস্র মানুষের জীবনসংগ্রামের হারতে হারতেও হেরে না – যাওয়ার প্রতীক ও প্রেরণা । অন্যদিকে সেনাপতি এক অর্থে মৃত্যুশোকেরও ভগ্নদূত । এ কারণেই ক্ষিতীশ এমন মন্তব্য করেছেন ।

17. কম্পিটিশনে পড়লে মেয়েটা তো আমার পা ধোয়া জল খাবে কোন প্রসঙ্গে কার এই উদ্ভি ? এখানে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে ?

Ans: অ্যাপোলো ক্লাবের সুইমিংপুলে বিভিন্ন পদ্ধতিতে , নানারকম প্রসসহ বস্তার উপদেশ – আদেশ দিয়ে কোনিকে সাঁতার শেখানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন ক্ষিতীশ । এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন তাঁকে নানাধরনের বাঙ্গোত্তি শুনতে হয় । অ্যাপোলোর দক্ষ সাঁতারু ও বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন অমিয়া , ক্ষিতীশ ও কোনিকে অ্যাপোলোতে দেখে ও কোনির প্রশিক্ষণ লক্ষ করে , অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও উদ্ধৃত হয়েই কোনি সম্পর্কে উপরোক্ত উক্তিটি করেছিল ।

   এই উক্তি থেকে অমিয়ার ঔদ্ধত্য ও অহংকার প্রকাশিত হয় । সে বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন এবং তখনও পর্যন্ত বাংলা সাঁতারুদের মধ্যে অন্যতম । তবে সেরাদের শুধু আত্মবিশ্বাসী হলেই হয় না , মাটিতে পা রেখে চলাটাও অত্যন্ত জরুরি । কিন্তু অমিয়া তা পারেনি । সাফল্যের চূড়ায় বসে সে চরম আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগতে থাকে । এই ধরনের ব্যক্তিদের বক্তার চরিত্রের মধ্যে এক ধরনের নিশ্চিন্ত আত্মবিশ্বাস লক্ষ করা প্রকাশিত দিক যায় , যে আত্মবিশ্বাস আমরা অমিয়ার মধ্যেও দেখতে পাই । আসলে জীবনে কাউকে কখনও ছোটো করে দেখতে নেই । কারও দক্ষতা বিষয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে নেই । এই ভুলটাই করে ফেলেছিল অমিয়া । কোনি তার পা ধোয়া জল খাবে — এমন উক্তি করে সে শুধু কোনিকেই অপমান করেনি , নিজেকেও খুব ক্ষুদ্র স্তরে নামিয়ে এনেছিল , যা তার অন্ধ – অহংকারী ও সংকীর্ণ মনেরই পরিচায়ক ।

18. ‘ দাঁড়া তোর ওষুধ আমি পেয়েছি এখানে কাকে ওষুধ বলা হয়েছে ? তাকে ওষুধের সঙ্গে তুলনা করার কারণ কী বলে তোমার মনে হয় ?

Ans: আলোচ্য অংশে বক্তা ক্ষিতীশ বালিগঞ্জ ক্লাবের সাঁতারু হিয়া মিত্রের প্রতি কোনির বিতৃয়া এবং ক্ষোভকেই ওষুধ বলে উল্লেখ করেছেন ।

   দরিদ্র পরিবারের সাধারণ মেয়ে কোনি তার দাদাকে কথা দিয়েছিল যে , রবীন্দ্র সরোবরের প্রতিযোগিতায় সে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হবে । কিন্তু সাঁতারের কোনো প্রথাগত প্রশিক্ষণ না থাকায় দাদাকে দেওয়া কথা সে রাখতে পারেনি । বালিগঞ্জ ক্লাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়া , ধনী ও অভিজাত পরিবারের মেয়ে হিয়া মিত্র প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় । ছোটো থেকে কোনির বদ্ধমূল ধারণা ছিল বড়োলোকরা গরিবদের ঘেন্না করে । তাই হিয়ার কাছে পরাজয় কোনি মেনে নিতে পারেনি । হিয়ার প্রতি তার এই বিতৃয়া ও প্রতিশোধস্পৃহাকে কাজে লাগিয়েছিলেন ক্ষিতীশ । প্রবল পরিশ্রমে ক্লান্ত ও অনিচ্ছুক কোনিকে , হিয়া মিত্রের নাম বললেই ম্যাজিকের মতো কাজ হত । তখন সাঁতারের জন্য তার অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদনে কোনো ত্রুটি দেখা যেত না । এইজন্য হিয়া মিত্রের নামটিকেই ওষুধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ।

19. সঙ্গে সঙ্গে বুঝেও গেল , প্রতিদিন ডিম কলা খাওয়ার জন্য যে টাকা দিয়েছে সেটা কিসে ব্যয় হয়কে , কাকে টাকা দিত ? সে কী বুঝতে পেরেছিল , তা নিজের ভাষায় লেখো  

Ans: সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশের দায়িত্ব ছিল কোনির খাওয়াদাওয়া , জীবনযাত্রার দিকে দৃষ্টি রাখা । তাই তিনি রোজ কোনিকে একটি করে টাকা দিতেন , যাতে সে পুষ্টিকর খাবার পেতে পারে । এই টাকা দেওয়ার কথাই এখানে বলা হয়েছে ।

   সাঁতারের জন্য শক্তির প্রয়োজন হয় । তাই ক্ষিতীশ কোনিকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার জন্য রোজ একটা করে টাকা দিতেন । কিন্তু কোনি একদিন তার দাদা অসুস্থ থাকায় ক্ষিতীশের কাছে দু – টাকা চায় চাল কিনবে বলে । তখন ক্ষিতীশ এই সত্য উপলব্ধি করেন , যে – টাকা তিনি রোজ কোনিকে পুষ্টিকর খাবার কিনতে দিয়েছেন , সেই টাকা কোনির নয় , কোনির পুরো পরিবারের খোরাকির পিছনেই ব্যয় হয়েছে । কোনি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে । সে ছাড়াও পরিবারে তার মা ও আরও পাঁচ ভাই – বোন রয়েছে । কোনির পক্ষে উপবাসী পরিবারের সামনে একা একা পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সম্ভব ছিল না । তাই সে তার ক্ষিদার কাছ থেকে খাবারের পরিবর্তে রোজ টাকার বন্দোবস্ত করে নিয়েছিল । ক্ষিতীশ শুরুতে এ বন্দোবস্ত বুঝে উঠতে না পারলেও পরে সবই হৃদয়ংগম করেছিলেন । তাই এরপর থেকে তিনি কোনির খাওয়ার ব্যবস্থা নিজের বাড়িতেই করেছিলেন ।

20. ‘ হাঁড়িতে ভাত ফোটা শব্দটা শুধু সেই মুহূর্তে একমাত্র জীবন্ত ব্যাপার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভাত ফোটার শব্দ টিকে একমাত্র জীবন্ত ব্যাপার বলার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো

Ans: সাঁতারু হিসেবে কোনির উত্থানের পিছনে যে দুজনের অবদান সবচেয়ে বেশি তাদের একজন যদি হয় ক্ষিতীশ সিংহ তবে অন্যজন অবশ্যই কোনির বড়দা কমল । সে ভালো সাঁতারু ছিল , কিন্তু বাবার অকালমৃত্যুতে সংসারের ভার তার কাঁধে এসে পড়ায় সাঁতারু হওয়ার স্বপ্ন তার কাছে অধরাই থেকে যায় । কমলের ইচ্ছা বোন কোনিকে ভালো সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা । কিন্তু অভাবের সংসারে কোনির সাঁতারের পিছনে খরচ করার মতো পয়সা কোথায় ? ক্ষিতীশ কিন্তু কমলের মনে তার স্বপ্নপুরণের আশা জাগিয়েছিলেন । আর এতেই যক্ষ্মা রোগগ্রস্ত কমল অন্ধকারময় জীবনে সামান্যতম আলো যেন দেখতে পায় ও ক্ষিতীশকে জিজ্ঞাসা করে কোনির পক্ষে ভালো সাঁতারু হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু । আত্মবিশ্বাসী ক্ষিতীশ তাকে জানান ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টায় তা সম্ভব হতে পারে । ক্ষিতীশের কথায় কমল যেন ধ্বংসের মাঝেও সৃষ্টির আশা দেখতে পায় এবং কোনিকে অনেক বড়ো হওয়ার কথা বলে । কোনিও দাদাকে তার স্বপ্নপূরণের কথা দেয় । এর পরেই সেই অভাবদীর্ণ এঁদোগলির ভিতরে একচিলতে ঘরের সকলেই , তাদের নিজের নিজের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায় । সেই দরিদ্র নিষ্প্রাণ মানুষগুলির কাছে তখন একমাত্র জীবন্ত বলে মনে হয়েছিল হাঁড়িতে ভাত ফোটার শব্দ , কারণ তাদের সমস্ত স্বপ্নের মধ্যে ওই একমুঠো ভাত ফোটার শব্দই ছিল বাস্তবের পদধ্বনি । 

21. গাছে অনেক দূর উঠে গেছি মই কেড়ে নিলে নামতে পারব না ’— গাছে উঠে যাওয়া বলতে বস্তু কী বুঝিয়েছেন ? এখানে মই কেড়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে কেন ?

Ans: গাছে উঠে যাওয়া ‘ শব্দটির অর্থ অনেকটা এগিয়ে যাওয়া । এক্ষেত্রে বস্তু বিচরণ প্রচুর অর্থের মালিক হলেও তার বাস্তব বুদ্ধি ছিল । একটু কমজোরি । তার প্রবল ইচ্ছা এম এল এ বিনোদ ভড়ের বিরুদ্ধে ‘ গাছে উঠে যাওয়া ‘ নির্বাচনে লড়াই করা । বিচরণ ক্ষিতীশকে অশ্বের মতো বিশ্বাস করত । ক্ষিতীশ বিচরণের পরামর্শদাতা হয়ে ওঠে । তার ভরসাতেই বিচরণ নির্বাচনে লড়াই করতে নামে । ক্ষিতীশ তার বক্তৃতা লিখে দেওয়া , বুদ্ধি জোগানোর মতো কাজগুলো করে দিতেন । ক্ষিতীশ তাকে বোঝান যে , বিনোদ ভড় যে যে সংস্থায় আছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলোতে তাকে যোগ দিতে হবে । তাই ক্ষিতীশের সহযোগিতায় বিনোদ ভড়ের জুপিটার ক্লাবের বিপক্ষ অ্যাপোলো ক্লাবের সভাপতি হওয়ার জন্য সে মুখিয়ে ওঠে এবং সাত হাজার টাকা অনুদানের অঙ্গীকারও করে বসে । বিস্টুচরণ একেই গাছে ওঠা বলেছে । 

  ‘ মই কেড়ে নেওয়া ‘ – র অর্থ কোনো কাজে এগিয়ে দিয়ে পিছন থেকে সরে যাওয়া । ক্ষিতীশ বিচরণকে জানান , অ্যাপোলোর প্রেসিডেন্ট হওয়ার ‘ মই কেড়ে নেওয়া ‘ জন্য তাকে ডোনেশন বাবদ দু – হাজার টাকা আর কোনির একটা সাঁতারের পোশাক বাবদ একশো টাকা খরচ করতে হবে । সেইসঙ্গে সেলামি বাবদ লীলাবতীর দেওয়া পাঁচ হাজার টাকাও ফেরত দিতে হবে । না হলে তিনি বিচরণের জন্য বক্তৃতা লিখে দেবেন না । তখন একদিকে আর্থিক ক্ষতি ও অন্যদিকে বিষ্টুচরণের বক্তৃতা না – লিখে দেওয়ার হুমকির মাঝে দাঁড়িয়ে বিস্টুচরণ এমন উক্তি করেছে ।

22. আমি দুহাজারী ধরেছি দুহাজারি বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? দু হাজারি ধরার কারণ কী ছিল ?

Ans: বিনোদ ভড়ের মতো এম এল এ তথা হবু মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য জনমত গঠনের প্রয়োজন ছিল বিচরণের । এর্ জন্য তাকে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হত , যা কোনো ক্লাবের সভাপতি হলে খুব তাড়াতাড়ি অর্জন করা যায় । তাই বিনোদ দু’হাজারি অর্থ ভড় যে – ক্লাবের সভাপতি তার বিপক্ষ ক্লাবের অর্থাৎ অ্যাপোলোর সভাপতি হওয়ার জন্য বিষ্টুচরণ দু – হাজার টাকা করতেও পিছপা হয়নি । এখানে ‘ দু’হাজারি ‘ বলতে বিচরণ ধরকে ইঙ্গিত করা দু – হাজারি 

   জুপিটার ক্লাবের চিফ ট্রেনারের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কোনির প্রশিক্ষণের জন্য ক্ষিতীশ অ্যাপোলো ক্লাবের শরণাপন্ন হয় । অ্যাপোলোকে সে কোনোদিনই নিজের ক্লাব মনে করবে না , এ কথা জানার পরও শুধুমাত্র কোনির আনা পদক অ্যাপোলো ক্লাবের গৌরব বৃদ্ধি করবে — এই শর্তে অ্যাপোলোর সহসভাপতি নকুল মুখুজ্জে তাকে নিজেদের সুইমিং পুল ব্যবহারের অনুমতি দেন । পরবর্তী সময়ে নকুল মুখুজ্জে বি এ এস এ – র সিলেকশন কমিটি থেকে বিতাড়িত হলে অ্যাপোলোকে বাঁচানোর জন্য একজন অর্থবান সভাপতির প্রয়োজন হয়ে পড়ে । ক্ষিতীশকে তিনি এই কথা জানালে ক্ষিতীশ হয়তো – বা কৃতজ্ঞতাবশেই বিচরণকে নানা কথার মারপ্যাঁচে ফেলে দু – হাজার টাকা । অনুদানের পরিবর্তে অ্যাপোলোর সভাপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখায় ।

23. ‘ ফিদা এবার আমরা কী খাব ? কার উক্তি ? এই উক্তির আলোকে বস্তুর পরিস্থিতির অসহায়তা বিশ্লেষণ করো

Ans: আলোচ্য উত্তিটির বস্তু হল কোনি । 

  শ্যামপুকুর বস্তির বাসিন্দা কোনির পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল মানুষ ছিল তার দাদা কমল । একটা সাঁতারু হওয়ার স্বপ্ন দেখা কমল দারিদ্র্যের চাপে উপার্জনের সন্ধানে যোগ দেয় উক্তির আলোকে রাজাবাজারের একটি মোটর গ্যারেজে । সেখান বক্তার পরিস্থিতির থেকে কষ্টার্জিত দেড়শোটি টাকা ছিল তার সংসার অসহায়তা বিশ্লেষণ চালাবার পাথেয় । দু – বেলা দু – মুঠো ভাত ছাড়া আর বিশেষ কিছুর সংস্থান তাতে হত না ঠিকই , কিন্তু প্রাণধারণটুকু হয়ে যেত । পরের দিকে কমল পরিবারের সচ্ছলতার উদ্দেশ্যে এক ভাইকে পনেরো টাকা মাইনের বিনিময়ে একটি চায়ের দোকানে কাজে ঢুকিয়েছিল । কোনিকে ষাট টাকায় এক সুতো কারখানায় ঢোকাবার ইচ্ছে থাকলেও ক্ষিতীশ কোনিকে বড়ো সাঁতারু করার ইচ্ছে প্রকাশ করায় , তা আর হয়ে ওঠেনি । ক্ষিতীশ কোনিকে প্রতিদিন খাওয়ার জন্য একটা টাকা দিত , তাও কোনির সংসারের পিছনেই খরচ হয়ে যেত । এহেন টানাটানির সংসারের প্রধান উপার্জনক্ষম কমল হঠাৎ যক্ষ্মারোগে ভুগে মারা গেলে পরিবারের বাকিদের অবস্থা আরও সঙ্গিন হয়ে পড়ে । তাই তার মৃত্যুতে শোকের চাইতেও যে প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিকভাবে আঘাত করে পরিবারের সব সদস্যের মনে , সেটিই কোনির মুখ দিয়ে ক্ষিদ্দার উদ্দেশ্যে নির্গত হয়েছে — ‘ এবার আমরা কী খাব ?

24. যন্ত্রণাকে বোঝ , ওটাকে কাজে লাগাতে শেখ , ওটাকে হারিয়ে দে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বক্তা কোনিকে যন্ত্রণা বুঝতে বাধ্য করেছিলেন ? ওটাকে কাজে লাগাতে শেখ , ওটাকে হারিয়ে দৌ বলার কারণ কী ছিল ? 

অথবা , কমলদিঘিকে টগবগ করে ফুটিয়ে তোল তোর রাগে বক্তব্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো  

Ans: কোনির যন্ত্রণাকে বুঝতে বাধ্য করা পরিস্থিতি উত্তর কোনিকে সাঁতার শিখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তুলে ধরাটা ক্ষিতীশের কাছে ছিল দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ । ক্রীড়াজগতের কাছে প্রশিক্ষক হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনির ভিতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার বিকাশ ঘটানোই ছিল তাঁর লক্ষ্য । কিন্তু কোনিকে এই সাফল্য পেতে গেলে কষ্টের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নিংড়ে নিজের সেরাটা বের করে আনতে হবে , যে কাজটা মোটেই সহজ নয় । আসলে কোনিকে যে আর্থসামাজিক পরিবেশ থেকে ক্ষিতীশ তুলে এনেছেন সেক্ষেত্রে কোনির মধ্যে ইচ্ছাশক্তিটাকে জাগ্রত করাটা বেশ কঠিন । সেই কাজ করতে গিয়ে ক্ষিতীশ একটানা তিন ঘণ্টা সাঁতার কাটিয়েছেন । যখনই সে জল থেকে উঠতে চেয়েছে তখনই ক্ষিতীশ নির্দয়ের মতো ঢিল ছুড়েছেন , বাঁশের লগা দিয়ে ভয় দেখিয়েছেন । কোনির সব কষ্ট , সব যন্ত্রণা বুঝেও তিনি এ কাজ করেছেন শুধুমাত্র কোনিকে বোঝানোর জন্য যে , প্রবল যন্ত্রণাকে হার মানিয়ে নিজের ইচ্ছাশক্তিকে জয়ী । করে তুলতে হবে , তবেই সাফল্য ধরা দেবে । প্রশ্নোত বক্তব্যের ক্ষিতীশের মতে , যন্ত্রণা সইতে পারলে সহ্যশক্তি বাড়বে আর কষ্টকে চ্যালেঞ্জ করে হারানোর নামই সাধনা । 

  ক্ষিতীশ এই বোধটাই কোনির মধ্যে জাগিয়ে তুলতে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন ।

25. ‘ কাজটা থেকে বরখাস্ত হলে চল্লিশটা টাকা থেকে তাদের সংসার বঞ্চিত হবে কোন কাজের কথা এখানে বলা হয়েছে ? কাজ থেকে বরখাস্ত হওয়ার আশঙ্কার কারণ কী ছিল ?

Ans: কমলের মৃত্যুর পর তার রোজগারের দেড়শো টাকার জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় , কোনিদের সংসার তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে । এরকম অবস্থায় কোনির সাঁতারও প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে বসে । এই সংকটের সময় ক্ষিতীশ তার স্ত্রী । লীলাবতীর দোকানে কোনিকে চল্লিশ টাকা বেতনে কাজে লাগিয়ে দেন । তার কাজ ছিল ট্রেনিং শেষে বেলা দশটার সময় দোকান খুলে ঝাঁট দেওয়া , কাউন্টার মোছা , কুঁজোয় জলভরা ছাড়াও অন্যান্য ফাইফরমাশ খাটা । রাতে দোকান বন্ধের পর তার ছুটি । বেতনের সঙ্গে সঙ্গে তার দু – বেলা খাবারও জুটত এই কাজের জন্য ।

   → ক্ষিতীশের স্বপ্ন কোনিকে চ্যাম্পিয়ন করা । তাই তিনি প্রতিদিন কোনির ট্রেনিংয়ের সময় বাড়িয়ে চলেন । লীলাবতী ব্যবসায়ী মানুষ । কোনির দোকানে আসার কথা দশটায় কিন্তু ক্ষিতীশের পাল্লায় পড়ে সেদিন কোনির দোকানে আসতে একটু দেরি হয় । দেরির কথা ভেবে কোনি । খাওয়াদাওয়া না করেই ক্লান্ত অবসন্ন শরীরে যখন দোকানে হাজির হয় , তখন লীলাবতী প্রায় সব কাজই নিজে করে নিয়ে রাগে ফুঁসছেন । তাকে দেখামাত্র লীলাবতী বেরিয়ে যেতে বলেন । অবসন্ন কোনি লীলাবতীর কাছে বাড়ি যাওয়ার আর্জি জানালে তা নাকচ হয়ে যায় । তবুও কোনি কষ্ট সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকে কাজ থেকে বরখাস্ত হওয়ার ভয়ে , কারণ কাজ থেকে পাওয়া চল্লিশটা টাকা যে তাদের সংসারের বড়ো প্রয়োজন ।

26. ‘ এরপর ক্ষিতীশ লক্ষ করল কোনি জল থেকে উঠতে দেরী করছে।এখানে এরপর শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী ? কোনির জল থেকে উঠতে দেরির কারণ কী ছিল ? অথবা , এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক বলতে কী বোঝানো হয়েছে আলোচনা করো ?

Ans: কোনিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য ক্ষিতীশ যে – ট্রেনিংটা কোনিকে করাতেন , তা ছিল কোনির কাছে অসহ্য । ঘণ্টার – পর – ঘণ্টা ট্রেনিং করে শরীর অবশ হয়ে আসত ; তবুও ক্ষিতীশের মন গলানো যেত না । সাধনার প্রথম পদক্ষেপ যে সমস্ত যন্ত্রণাকে অতিক্রম করতে শেখা , এ কথা কোনিকে কোনোভাবেই বোঝানো যেত না । তবে ক্ষিতীশের জানা ছিল কোনির দুর্বল জায়গা হল হিয়া মিত্র । হিয়া মিত্রের কাছে হারায় কোনি তার মৃত্যুপথযাত্রী দাদার কথা রাখতে পারেনি । সেই হিয়ার প্রতি তার যে চরম বিতৃয়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক । ক্ষিতীশ সেই বিতৃয়াকে কাজে লাগিয়ে কোনিকে উদ্বুদ্ধ করতে চাইতেন । চিড়িয়াখানায় হিয়ার জল প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাকে অন্যভাবে পরিবেশন করে , কোনির মধ্যে একটা প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি করেন ক্ষিতীশ । এরপর ’ বলতে লেখক এই পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন । ক্ষিতীশ সচেতন ভাবেই হিয়ার প্রতি কোনির হিংস্র এই আক্রোশটাকে , তীক্ষ্ণ করতে চাইতেন । কারণ ওটা কোনির বুকে সজ্জিত থাকলে আসল সময়ে জলের মধ্যে তা অগ্ন্যুৎপাত ঘটাবেই , এ কথা ক্ষিতীশ জানতেন । কোনির জল থেকে উঠতে দেরির কারণ 7 হিয়া মিত্র ছিল কোনির সবচেয়ে বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বী । কোনির জীবনের প্রথম হারটা এসেছিল এই হিয়ার কাছ থেকেই । তাই তার কথা মনে পড়লেই কোনি বারুদের মতো জ্বলে উঠত । তার এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষিতীশ তাকে উদ্বুদ্ধ করলে , সে আর জল থেকে উঠত না । অনুশীলনেও নিজেকে গভীরভাবে মগ্ন রাখত ।

27. ‘ আর একটা দরজির দোকান ঠিক করেছি দিনে প্রায় হাপ কেজি মাল হয় কে , কেন দর্জির দোকান ঠিক করেছিল ? এই সমস্ত কিছুর কারণ কী ? 

Ans: ক্ষিতীশের হিতাকাঙ্ক্ষী ভেলো তাঁকে দর্জির দোকান ঠিক করে দিয়েছিল । সেখান থেকে কাপড় এনে সমান মাপ করে কেটে লন্ড্রিগুলোতে বিক্রি করতেন ক্ষিতীশ । এগুলোতে নম্বর লিখে জামাকাপড়ে বেঁধে কাচতে পাঠাবার জন্য , লন্ড্রিতে এর চাহিদা বেশ ভালো । কোনির প্রয়োজনে ক্ষিতীশকে আরও অর্থ রোজগারের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে ভেলো আরও একটা দর্জির দোকানের খবর এনেছিল । কোনির মতো হতদরিদ্র মেয়েকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা ক্ষিতীশের পক্ষে জোগান দেওয়া সম্ভব ছিল না । দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনির শরীরে অপুষ্টির ছাপ স্পষ্ট । সাঁতারের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যেসব খাদ্য থেকে আসে তার কারণ জোগান দেওয়া পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না । তাই সব দায়িত্বই ক্ষিতীশকে নিতে হয়েছিল । তাই তাকে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে হয় । 

ALSO READ :  West Bengal Madhyamik Class 10th Bengali Proloyullash Question and Answer

  ক্ষিতীশ শুধু এখানেই থেমে থাকেনি , ছিট কাপড় কাটার কাজে কোনির মাকেও যুক্ত করে সাংসারিক অভাবমোচনের চেষ্টা করেছিলেন ; এমনকি কোনিকেও তিনি স্ত্রী লীলাবতীর কাছে চল্লিশ টাকা মাইনের কাজ জুটিয়ে দিয়েছিলেন । ক্ষিতীশ জানতেন পরিবারের অন্যরা অভুক্ত থাকলে কোনি সাঁতারে মনোনিবেশ করতে পারবে না । এসবের মধ্য দিয়ে আমরা ক্ষিতীশকে এক মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিভাত হতে দেখি ।

28. ‘ তোমার এই গঙ্গা থেকে কুড়োনো মেয়েটা কেমন টাইম করছে ? কোন্ প্রসঙ্গে কার এই উক্তি ? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো

Ans: উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন জুপিটার ক্লাবের বদু চাটুজ্জে । পাশাপাশি প্রসাসহ বস্তার পরিচয় ক্লাব হওয়ায় তারা কোনির ট্রেনিং ও একাগ্রতা এবং ক্ষিতীশের নিষ্ঠা দেখে ভয় পেয়েছিল । ধীরেন ঘোষ ও বদু চাটুজ্জে ভেবে নেয় ক্ষিতীশ জুপিটারকে টক্কর দিতে নিশ্চয় কোনো অসাধ্যসাধন করতে চলেছে । সে কারণেই কোনির ট্রেনিং – এর সময় তারা সেখানে খবরাখবর নেওয়ার জন্য আসেন এবং তাচ্ছিল্যের সুরে ক্ষিতীশের উদ্দেশ্যে উদ্ধৃত উক্তিটি করেন ।

   উদ্ধৃত উদ্ভিটির মধ্যে দিয়ে বদু চাটুজ্জেদের মতো মানুষদের নীচতা প্রকাশ পেয়েছে । এইসব হীন ব্যক্তি মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে , তাকে আরও দুর্বল করে দেওয়ায় সিদ্ধহস্ত । কোনির উদ্ধৃতাংশটির মতো সহজাত প্রতিভার অধিকারী , সমস্ত সামাজিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দক্ষ প্রশিক্ষকের হাতে পড়ে যখন পরিপূর্ণতা পেতে শুরু করেছে , তখনই বদু চাটুজ্জেদের মাথাব্যথা শুরু হয়েছে । তাই ‘ গঙ্গা থেকে কুড়োনো মেয়ে ‘ ডন ফ্লেজারের টাইম ধরে ফেলেছে কিনা ইত্যাদি ব্যঙ্গাত্মক কথা বলে কোনি ও ক্ষিতীশকে তিনি ও তারা দুর্বল করতে চেয়েছেন । কিন্তু অভিজ্ঞ ক্ষিতীশ অন্য ধাতুতে গড়া । তাই তিনিও তাচ্ছিল্যের উত্তর কৌশল সহকারেই দিয়েছেন ।

29. তোর আসল লজ্জা জলে , আসল গর্বও জলে কোনির কোন কথার পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলা হয়েছে ? তার আসল লজ্জা আসল গর্ব জলে বলার কারণ কী ?

Ans: ক্ষিতীশ ও কোনিকে প্রশিক্ষক আর সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে নানান প্রতিবন্ধকতা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে । ধীরেন ঘোষ , বদু চাটুজ্জে , অমিয়া , হরিচরণরা কখনও কোনিকে ক্লাবে ভরতি না করে , কখনও সাঁতারের পুলে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করে , কখনও – বা প্রথম হওয়া সত্ত্বেও জোর করে তাকে প্রশ্নোধৃত বক্তব্যের দ্বিতীয় বলে ঘোষণা করে বিপর্যস্ত করে দিতে পরিপ্রেক্ষিত চেয়েছে । আসল কথা ক্ষিতীশ ও কোনিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে হারাতে না পেরে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছে । এমনকি ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতীর দোকানে অমিয়া ব্লাউজ করতে এসে , কোনিকে ‘ ঝি ‘ বলে সম্বোধন করে তার মনোবল ভাঙতে চেয়েছে । অমিয়ার কথায় ক্ষুব্ধ কোনি ক্ষিতীশের কাছে তার লজ্জা – অপমানের কাহিনি শোনালে , তিনি কোনির উদ্দেশ্যে উপরোক্ত মন্তব্যটি করেন ।

  অমিয়ার ব্যঙ্গোক্তিতে কোনি আঘাত পাওয়ায় ক্ষিতীশ তাকে উদ্দেশ্য করে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন । কোনির সবচেয়ে বড়ো পরিচয় সে একজন সাঁতারু । একজন সাঁতারুর আসল লজ্জা যখন সে প্রতিযোগিতায় পরাজিত হবে আর গর্ব হল যখন সে জয়লাভ করবে । ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপমান একজন সাঁতারুকে কখনও পরাজিত করতে পারে না । ক্ষিতীশ এ কথাই বলতে চেয়েছেন ।

30. ‘ ওর ছিপছিপে শরীরটার মধ্যে দিনে দিনে সজ্জিত যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাণ্ডারটিতে যেন বিস্ফোরণ ঘটল — ‘ যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাণ্ডার বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন ? বিস্ফোরণের ফল কী হয়েছিল ?

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসে আমরা দেখি , দিনের পর দিন যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাঙার – অর্থ ধরে কঠিন থেকে কঠিনতম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে কোনিকে তৈরি করেছিলেন ক্ষিতীশ । বহু প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে , নানা হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতিকে দূরে সরিয়ে কোনির মধ্যে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন শক্তি আর সামর্থ্য । ঘণ্টার পর ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে উদ্ভূত অমানুষিক যন্ত্রণাকে হার মানাতে গিয়ে কোনিকে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছিল । ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলে , তাকে কাজে লাগিয়ে দৈহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যে চ্যালেও , তাকে বাস্তব রূপ দিতে গিয়ে কোনি ও ক্ষিতীশ দিনরাত এক করে ফেলেছিল । আর এই যন্ত্রণার বিনিময়ে কোনির রোগা শরীরে এক অফুরন্ত শক্তির ভাণ্ডার সজ্জিত হয়েছিল । একেই লেখক ‘ যন্ত্রণায় ঠাসা শক্তির ভাণ্ডার ‘ বলে অভিহিত করেছেন । বিস্ফোরণের ফল বহুদিনের সাধনার ফলে কোনির মধ্যে সঞ্চিত শক্তির ভাণ্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে । জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় কোনিকে চক্রান্ত । করে বাদ দেওয়া সত্ত্বেও প্রতিযোগিতার বাইরে থেকেও সে অমিয়াকে পরাজিত করেছিল । পাশাপাশি ক্লাব হওয়ার কারণে অ্যাপোলোর অংশে সাঁতার কেটে কোনি অমিয়াকে হারিয়েছিল ।

31. এই বুড়ো বয়সে ধেই ধেই করে নাচছিলে কেন ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির ধেই ধেই করে নাচার কারণ কী ছিল ? এক্ষেত্রে বস্তার কোন্ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে ?

Ans: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী । এক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হলেন ক্ষিতীশ ওরফে কোনির ‘ ক্ষিদা ‘ । কোনির শিক্ষক ক্ষিতীশ ছিলেন তাঁর ছাত্রীর মতোই , লাঞ্ছিত ও অপমানিতের দলে । মিথ্যা অজুহাতে তাঁকে জুপিটারের চিফ ট্রেনারের পদ ছাড়তে হয়েছিল । নিজের দক্ষতাকে প্রমাণের জন্য কোনিই ছিল ক্ষিতীশের তুরুপের তাস । জুপিটারের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় অমিয়াকে হারিয়ে কোনিকে শ্রেষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা ও নিজেকে সফল কোচ হিসেবে তুলে ধরাই ছিল তাঁর লক্ষ্য । কিন্তু জুপিটারের কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি । তাই নাছোড় ক্ষিতীশ জুপিটারের লাগোয়া অ্যাপোলোর জলাশয়ে প্রতিযোগিতার বাইরে কোনির সাঁতারের ব্যবস্থা করেন । প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারলেও সময়ের হিসেবে কোনি অমিয়াকে পরাজিত করে । এই প্রমাণের পরীক্ষায় ছাত্রী – সহ সম্মানের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে সমালোচকদের যোগ্য জবাব দেওয়ার আনন্দে ক্ষিতীশ নাচতে শুরু করেছিলেন । 

 ← এমনিতে কঠিন স্বভাবের হলেও স্বামীর প্রতি লীলাবতীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল যথেষ্ট । কোনির প্রতি তাঁর ব্যবহার ছিল মাতৃসুলভ । বস্তার দৃষ্টিভঙ্গির কোনির অনুরোধ রাখতে তিনি কমলদিঘির সাঁতার প্রতিযোগিতা দেখতে গিয়েছিলেন দোকানের কর্মচারীদের নিয়ে । কোনির সাফল্যে ক্ষিতীশের নাচ লীলাবতীকে দোকানের কর্মচারীদের কাছে অপ্রস্তুত করে দিয়েছিল । তাই এমন মন্তব্য । আসলে লীলাবতী ছিলেন সংযত ও আত্মসম্মানবিশিষ্টা একজন মহিলা । এখানে তাঁর সেই ব্যক্তিত্ববোধেরই প্রকাশ ঘটেছে ।

32. ‘ আজও ছিল আমার সঙ্গে কী থাকার কথা এখানে বলা হয়েছে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো

Ans: কোনির জীবনে তার দাদা কমলের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি রকমের । বাবার মৃত্যুর পর সাঁতারু হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কমলকে সাত ভাই – বোনের সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য , দেড়শো টাকা মাইনের বিনিময়ে গ্যারেজের কাজ নিতে হয় । কমল তার সাঁতারু হওয়ার অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য কোনিকে উৎসাহ দিত এবং কোনিও দাদার স্বপ্নপুরণের স্বপ্ন দেখত । কিন্তু অনিনের মধ্যেই কমল যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় । মৃত্যুর পরেও কোনি তার দাদল কমলকে এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারেনি । তাই কোনি যখনই সাঁতার কাটত তার মনে হয় , একটা মুখ যেন তার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে , আর মুখটা ঠিক যেন তার দাদার মতো । আজ অর্থাৎ কমলদিখির সাঁতার প্রতিযোগিতার দিনেও সেই মুখ তার সঙ্গে ছিল । কোনির সাঁতারু জীবনে সবচেয়ে বড়ো উৎসাহদাতা ছিল তার দাদা কমল । কমলের মৃত্যু বাস্তব হলেও সে কোনির অবচেতন মনে একটা চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয় । কারণ কমলই ছিল তার সাঁতারু হওয়ার প্রথম উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য অনুপ্রেরণা । তাই কোনি স্বপ্নে দাদার কাছে মেডেল পাওয়ার অঙ্গীকার করে । তাকে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে যাবার আবদার জানায় । আসলে কোনির মনোজগতে নিজের এক পরম প্রিয়জনের শূন্যস্থান তাকে সবসময় আহত করত । তাই জলের নীচে বিভ্রমবশত কোনি তার দাদার মুখ দেখতে পেত । তা ছাড়া আত্মা সম্পর্কিত সংস্কার বা বিশ্বাস থেকেও সে ভয় পেয়েছিল ।

33. ‘ এভাবে মেডেল জেতায় কোনো আনন্দ নেই বক্তা কে ? তার এমন কথা বলার কারণ কী ছিল ?

 অথবা , তোমার লাস্ট ফরটি মিটারস আমি ভুলব না কার উক্তি ? প্রসঙ্গ নির্দেশ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও

Ans: উদ্ধৃত উক্তিটির বস্তা হলেন কোনির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া বক্তার পরিচয় মিত্রের বাবা । নিজের মেয়ে মেডেল জিতলেও কোনির বিরুদ্ধে যেভাবে চক্রান্ত হয়েছিল তা তিনি মেনে নিতে পারেননি । জুপিটারের একসময়ের চিফ ট্রেনার ক্ষিতীশ ও তারই হাতে গড়া অন্যতম সাঁতারু কোনি ছিল জুপিটারের একটি গোষ্ঠীর চক্রান্তের শিকার । এই গোষ্ঠীর চক্রান্তেই স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে দু – বার বক্তার উদ্দিষ্ট কথা ডিসকোয়ালিফাই এবং একবার প্রথম হয়েও দ্বিতীয় স্থান গ্রহণ করতে হয় কোনিকে । ব্রেস্ট – স্ট্রোকের একশো মিটারে কোনির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল হিয়া মিত্র । সেখানে টাইমকিপার বদু চাটুজ্জে কোনিকে মিথ্যা অজুহাতে ফ্ল্যাগ নেড়ে ডিসকোয়ালিফাই করেন । এরপর ফ্রি স্টাইলে কোনি সাঁতার শেষ করে ফিনিশিং বোর্ড ছুঁয়ে মুখ ঘুরিয়ে দেখে অমিয়া এসে ফিনিশিং বোর্ড ছুঁল অথচ নাম ঘোষণার সময় প্রথম হিসেবে অমিয়ার নাম ঘোষিত হয় । এক্ষেত্রে ক্ষিতীশ প্রতিবাদ করলেও তা গ্রাহ্য হয়নি । দুশো মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে কোনিকে বাটারফ্লাইতে , যজ্ঞেশ্বর ভট্টাচার্য আগে থেকেই ফ্ল্যাগ তুলে প্রায় ডিসকোয়ালিফাই করে রেখেছিল । সেদিন সাঁতারের পুলে এই নির্লজ্জতাগুলো সকলের মতো হিয়ার বাবাকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল । আর সেজন্যই মেয়ে মেডেল পেলেও সেই জয় তিনি মেনে নিতে না – পেরে উপরোক্ত মন্তব্যটি করেছেন ।

34. ‘ আমার মেয়েদের আমি উইথড্র করে নিচ্ছি বস্তা কে ? তার এমন কথা বলার কারণ কী ছিল ?

Ans: আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার ও হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস । ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা মহিলা সাঁতারু দল নির্বাচনের সভায় প্রণবেন্দু আলোচা উক্তিটি করেছিলেন । ক্ষিতীশের বিরোধী গোষ্ঠীর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা কোনির সামনের সব পথ একে একে বন্ধ করে দিচ্ছিল । এমনকি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা দলে তার স্থান পাওয়াও বক্তার উদ্দিষ্ট কথা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল । কিন্তু প্রণবেন্দু বিশ্বাস এর প্রতিবাদ করেন । ইতিপূর্বে তিনি কোনির সাঁতার দেখেছেন । একজন প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশের মতো তিনিও কোনির অপ্রতিহত প্রতিভাকে চিনতে পেরেছিলেন । কোনিকে বাংলা দলে রাখলে যে আখেরে রাজ্যেরই লাভ হবে , এটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে , ‘ স্প্লিন্ট ইভেন্টে ওর সমকক্ষ এখন বাংলায় কেউই নেই । ‘ কোনি দলে থাকলে যে বাংলা মহারাষ্ট্রের কাছ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ ছিনিয়ে আনতে পারবে , সেই বিশ্বাসও তাঁর ছিল । তাই কোনিকে দলে জায়গা দেওয়া নিয়ে প্রণবেন্দু অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ধীরেন ঘোষ প্রমুখর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন । শেষপর্যন্ত কোনিকে না নিলে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সুইমারদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়ে দেন । তাঁর এই কৌশলেই কোনি বাংলা দলে সুযোগ পায় ।

35. স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত করা হয়েছিল , তার বিবরণ দাও  

Ans: কোনির সাঁতারু জীবনের সূত্রপাত থেকেই তাকে একের – পর এক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়তে হয়েছে । একদিকে তার সামাজিক অবস্থান , অন্যদিকে ক্ষিতীশের শিষ্যা বলেই ক্ষিতীশের বিরোধী গোষ্ঠী বারবার তাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোতে বাধা দেয় । স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হয় । 

ব্রেস্ট – স্ট্রোকের ১০০ মিটারে কোনি ও হিয়া একইসঙ্গে ৫০ মিটার থেকে টার্ন নেয় । কিন্তু টাইমকিপার বদু চাটুজ্জে লাল ফ্ল্যাগ নেড়ে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করে দেয় এই অজুহাতে যে , সে টার্ন করেই আন্ডারওয়াটার ডাবল – কিক নিয়েছে । এরপর ফ্রি – স্টাইল ইভেন্টে কোনি সাঁতার শেষ করে ফিনিশিং বোর্ড ছোঁয়ার পর অমিয়া এসে হাত চ্যাম্পিয়নশিপে ছোঁয়াল । কিন্তু প্রথম হিসেবে অমিয়ার নাম ঘোষিত কোনির বিরুদ্ধে চক্রান্তের বর্ণনাহল । ক্ষিতীশের প্রতিবাদ গ্রাহ্যই করা হল না । পরবর্তী ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে কোনি বাটারফ্লাইতে হিয়া ও অমিয়ার কাছে পিছিয়ে পড়লেও , ব্যাক স্ট্রোকে অমিয়াকে ধরে ফেলে টার্ন নিতেই দেখা গেল যে , যজ্ঞেশ্বর ভট্চাজ লাল ফ্ল্যাগ তুলে ধরেছে । এবার ফলটি টার্ন নিয়েছে বলে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করা হল । অথচ যজ্ঞেশ্বর কোনি টার্ন নেবার আগে থেকেই লাল ফ্ল্যাগ তুলে ধরেছিল । এইভাবে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তিন – তিনবার কোনিকে চক্রান্তের শিকার হতে হয়েছিল । 

36. ‘ রমা যোশির সোনা কুড়োনো বন্ধ করা ছাড়া আমার আর কোন স্বার্থ নেই উদ্ধৃতাংশটির আলোকে বস্তার চরিত্রবিশ্লেষণ করো

Ans: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের চিহ্ন । ট্রেনার ও হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস । প্রণবেন্দুর মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রের সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা ছিল না , ছিল জাতীয়তাবোধ । তাই হিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়াতেও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রমা যোশির সোনা কুড়োনোকে আটকাতে এবং বাংলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে কোনি ওরফে কনকচাপা পালকে বাংলা দলে অন্তর্ভুক্তির কথা জাতীয়তাবোধ বলেছিলেন । শুধু বলাই নয় , এই কথা বাস্তবায়িত না হলে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে নিজের ক্লাবের মেয়েদের নাম তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন । প্রণবেন্দু তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও সততা বিসর্জন দেননি । তাই স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে অন্যায় ভাবে করে ডিসকোয়ালিফাই করলে কিংবা প্রথম হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় ঘোষণা করা হলে , তিনি তার প্রতিবাদ করেন । কোচ হিসেবে প্রণবেন্দু ছিলেন যথেষ্ট পেশাদার । তাই ক্ষিতীশ , হিয়ার সাঁতারের সময় জানতে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবে পেশাদারিত্ব উপস্থিত হলে , তিনি হিয়াকে এমনভাবে নির্দেশ দেন যাতে ক্ষিতীশ কোনোভাবেই তার সময়টা বুঝতে না পারে । কোনিকে সাঁতারু হিসেবে তুলে ধরতে যে – কজন সদর্থক ভূমিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রণবেন্দু বিশ্বাসের নাম অবশ্যই করতে হয় ।

37. ‘ গপ্পো লেখ কোনি , তুই মস্তো লেখক হবি কোনিকে এমন কথা বলার কারণ কী ? এই মন্তব্য কতদূর সংগত বলে তুমি মনে কর ?

Ans: উদ্ধৃত ব্যঙ্গোক্তিটি কোনির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে । জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের যে – দলটি গিয়েছিল তার মধ্যে কোনিও ছিল । দলের প্রত্যেকেই কোনির বিরুদ্ধাচরণ করত , তাকে একঘরে করতে বদ্ধপরিকর ছিল । হিয়া মিত্র রসিকতা করে বেলার ক্রিম নিয়ে মেখে অবশিষ্টটুকু কোনির গালে মাখিয়ে দেয় । বেলা ক্রিম কম দেখে কোনিকে সন্দেহ করে | এবং অমিয়া কোনির গালে ক্রিমের গন্ধ পেতেই আগুনে ঘি পড়ার মতো বেলা রেগে ওঠে এবং চড় মারে । কোনি আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দিতে চাইলেও তারা তা বিশ্বাস করেনি । বেলা কোনির যুক্তি না শুনে উলটে তাকে উদ্ধৃত ব্যঙ্গোক্তিটি করে । মন্তব্য কতদূর সংগত এই মন্তব্য কোনো সভ্যসমাজই সমর্থন করে না । এই উক্তিটির মধ্যে দিয়ে বেলা – সহ তার বন্ধুদের শুধু নীচ মানসিকতাই প্রকাশ পায়নি , প্রকাশ পেয়েছে তাদের হীনম্মন্যতা । আভিজাত্যের অহংকারে তারা অন্ধ , তাই সাঁতারের জগতে কোনির মতো হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ের উঠে আসাকে তারা পছন্দ করেনি । হিয়া যে ঘটনার প্রকৃত অপরাধী , তা কোনি বোঝাতে চাইলেও তারা বিশ্বাস করেনি । কারণ হিয়া বিত্তবান পরিবারের মেয়ে । তাই এই উক্তি তাদের অসভ্যতা আর অসংযত ও বহুমাত্রায় অশোভন আচরণ বলেই প্রতিভাত হয়েছে ।

38. তবে একবার কখনো যদি জলে পাই কোন্ প্রসঙ্গে কার এই উক্তি ? এখানে জলে পাওয়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?

Ans: উদ্ধৃতিটির বস্তু কোনি ওরফে কনকচাপা পাল । জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলা থেকে যেসব মহিলা সাঁতারুরা গিয়েছিল তার মধ্যে ছিল কোনি । দলের অন্য মেয়েদের সঙ্গে কোনির সম্ভাব ছিল না । তারা কোনিকে ভয় পেয়েছিল , তাই সাঁতারের বাইরে কোনিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে চেয়েছিল । বেলা , অমিয়া , হিয়ারা তাকে পরোক্ষে চোর অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করে । বড়োলোকের মেয়ে হিয়া বেলার ক্রিম নিয়ে মেখে অবশিষ্টটুকু কোনির গালে মাখিয়ে দেয় । বেলা ক্রিম কম দেখে কোনিকে সন্দেহ করে । তার গালে ক্রিমের গন্ধ আবিষ্কার করে অমিয়া । আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো কিছু শোনার আগেই বেলা কোনিকে চড় কষিয়ে দেয় । এরপর হিয়া সত্যটা বলতে সকলে শান্ত হয় । সেইসময় কোনি হিয়ার জন্য অপমানিত হয়েছে । বলে তার গালে চড় কষিয়ে দিয়ে জানায় , সে বস্তির মেয়ে , হিয়ার মতো অভিজাতের সঙ্গে তার তুলনা চলে না । তবে যদি সে হিয়াকে কোনোদিন জলে পায় এই পার্থক্য ঘুচিয়ে দেবে । কোনির একমাত্র সম্বল তার প্রতিভা আর আত্মবিশ্বাস । হিয়াকে সে অন্য কোনোদিকে পরাজিত করতে না পারলেও ‘ ছলে পাওয়া ’ – মূল অর্থ সাঁতারে পারবেই— এই আত্মবিশ্বাস তার ছিল । ক্ষিতীশের কথামতো তার লজ্জা ও শরম যে জলেই সে – কথা মনে রেখেই কোনি , হিয়ার দিকে এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল । 

39. ‘ এই মুহূর্তে সে বুঝল তার মাথা থেকে মুকুট তুলে নিয়েছে হিয়া কার কথা বলা হয়েছে ? সে কীভাবে এই উপলব্ধিতে উপনীত হল তা বুঝিয়ে দাও

 অথবা , অমিয়ার চরিত্রটি আলোচনা করো

Ans: ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের উদ্ধৃতাংশে ‘ সে ’ বলতে বাংলার চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু অমিয়াকে বোঝানো হয়েছে । ‘ এই মুহূর্তে ….. মুকুট তুলে নিয়েছে যেভাবে এই উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছে অমিয়া ← অমিয়া ছিল বাংলার সেরা সাঁতারুদের মধ্যে অন্যতম । অল্প বয়সে অধিক সাফল্যের কারণে তার মধ্যে দেখা দিয়েছিল ঔদ্ধতা ও অহংকার ; সেইসঙ্গে তার চারপাশে জুটেছিল চাটুকার । সে এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল যে , নিজেকে সর্বকালীন সেরা সাঁতারু ভাবতে শুরু করে । কিন্তু বাংলার সাঁতারে হিয়া মিত্রের উত্থান তাকে ধীরে ধীরে বেকায়দায় ফেলতে থাকে । অমিয়ার পায়ের তলার মাটি যে সরে গেছে তা সে বুঝতে পারে মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্যাম্পে । তখন তার চাটুকাররাও আর তার পাশে থাকে না । তাই সেদিন অমিয়া , হিয়ার ট্রানজিস্টারে জোরে হিন্দি গান শোনার প্রতিবাদ করলে উত্তরে তাকে শুনতে হয় ‘ আপনি চেঁচাবেন না ‘ । এভাবেই তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোনি ও তার পুরোনো কোচ ক্ষিতীশের প্রতি তাচ্ছিল্য , অনীহা এবং বিরক্তি প্রকাশ এবং নিজের হারানো সম্মান উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়া অমিয়া ধীরে ধীরে একজন রক্তমাংসের চরিত্র হয়ে ওঠে ।

40. হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠল ৭০ সংখ্যাটাপ্রসঙ্গ নির্দেশ করে ৭০ সংখ্যাটা চোখে ভেসে ওঠার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও

Ans: মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের একের পর এক সোনাজয়ী সাঁতারু রমা যোশির শুধু নামই শুনেছিল কোনি । মাদ্রাজে গিয়ে রমা যোশির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে । প্রথমটায় সাধারণ চেহারার মেয়েটিকে চিনতে না পারলেও নাম শুনে সে বুঝে যায় , এই তার সেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী যাকে হারানোর জন্য কোনিকে অক্লান্ত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে । সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে পড়ে যায় ‘ ৭০ ‘ সংখ্যাটি । ক্ষিতীশ সর্বত্র কোনির চোখের সামনে বড়ো অক্ষরে লাল কালিতে ‘ ৭০ ‘ সংখ্যাটি লিখে ঝুলিয়ে রেখেছিল । এটা হল আসলে ৭০ সেকেন্ড অর্থাৎ ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড , যা ছিল রমা যোশির সময়ের চেয়ে ২ মিনিট কম । আর এটাই ছিল কোনির লক্ষ্য । কোনি যাতে সে বছরই রমা যোশির সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে , তাই কোনির চোখে সর্বদাই ওই সময়টিকে ভাসিয়ে রেখেছিল ক্ষিতীশ । শয়নে – স্বপনে কখনও যাতে কোনি এ কথা না – ভোলে , সেইজন্য তার এই বন্দোবস্ত । সেই কথাই রমা যোশিকে দেখে কোনির মনে পড়ে গিয়েছিল ।

41. ‘ আপনারা ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য ওকে ভিক্টিমাইজ করলেন বক্তা কে ? ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য কাকে , কীভাবে ভিকটিমাইজ করা হয়েছে ?

Ans: আলোচ্য অংশের বক্তা হল বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার ও হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস । কোনির সাঁতারু জীবনের সূত্রপাত থেকেই তাকে একের – পর – এক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়তে হয়েছে । ক্ষিতীশের শিষ্যা বলেই ক্ষিতীশের বিরোধী গোষ্ঠী বারবার তাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোতে বাধা দিয়েছে । স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হয়েছিল । লক্ষ্যে পৌঁছোতে বাধা কোনিয় বিরুদ্ধে চক্রান্ত ব্রেস্ট – স্ট্রোকের ১০০ মিটারে কোনি ও হিয়া একইসঙ্গে ৫০ মিটার থেকে টার্ন নেয় । কিন্তু টাইমকিপার বদু চাটুজ্জে লাল ফ্ল্যাগ নেড়ে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করে দেয় এই অজুহাতে যে , সে টার্ন করেই ক্ষিতীশকে অভীষ্ট আন্ডারওয়াটার ডাবল – কিক নিয়েছে । এরপর ফ্রি – স্টাইল ইভেন্টে কোনি অমিয়ার আগে সাঁতার শেষ করে ফিনিশিং বোর্ড ছুঁলেও প্রথম হিসেবে অমিয়ার নাম ঘোষিত হল । পরবর্তী ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে কোনি বাটারফ্লাইতে হিয়া ও অমিয়ার কাছে পিছিয়ে পড়লেও ব্যাক স্ট্রোকে অমিয়াকে ধরে ফেলে টার্ন নিতেই যজ্ঞেশ্বর ভট্চাজ লাল ফ্ল্যাগ তুলে ফলটি টার্নের মিথ্যে অভিযোগে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করল । এইভাবে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তিন – তিনবার কোনিকে চক্রান্তের শিকার হতে হয়েছিল । শুধু তাই নয় , মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলা দলে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও কোনিকে কোনো প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ দেওয়া হয়নি । শেষপর্যন্ত রিলেতে অমিয়ার পরিবর্তে কোনির নাম ঘোষণা করে প্রণবেন্দু , নিজের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে আলোচ্য উক্তিটি করেছিল ।

42. “ কাল আমাকে দেখাতেই হবে কাকে , কী দেখাতে হবে ? এর কারণ কী ছিল ?

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটি অমিয়ার শপথবাক্য । ন্যাশনালে চারশো মিটারে হেরে যাওয়ার পর অমিয়া বুঝতে পারে হিয়া মিত্র খুব দ্রুত উঠে এসে তার এতদিনের ধরে রাখা আসনটা যেন নাড়িয়ে দিচ্ছিল । তার চারপাশের চেনা মানুষগুলি শিবির পরিবর্তন করে হিয়ার পাশে ঘুরতে শুরু করেছে । তাই তার হারানো জমি পুনরুদ্ধারে ন্যাশনালের পরের ইভেন্টগুলোতে নিজেকে প্রমাণ করতেই সে এমন শপথ নিয়েছিল । 

  সাফল্য অনেক সময় মানুষের মনে জন্ম দেয় উপত্য ও অহংকারের । যেমনটি হয়েছিল অমিয়ার ক্ষেত্রে । সে তারই প্রশিক্ষককে অপমান করে , তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাকে এড়িয়ে যাবার জন্য জুপিটার ছেড়ে অ্যাপোলোতে যোগ দিয়েছে । আর তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে বেলা , অঙ্কুদের মতো চাটুকাররা । অমিয়া নিজের সাফল্যকে চিরস্থায়ী ধরে নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ডুবে থেকেছে । আর সেই সুযোগে হিয়া নিজেকে তুলে ধরেছে সকলের সামনে । তার দিন যে ফুরিয়ে এসেছে তা অমিয়া টের পায় মাদ্রাজ ক্যাম্পের নানান ঘটনায় । সব কিছু তার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার জন্য মরিয়া অমিয়া নিজেকে উদ্দীপিত করতে এ কথা বলেছিল ।

43. ‘ কোনি তুমি আনস্পোটিং কোন প্রসঙ্গে , কার এই উক্তি ? কোনিকে আনস্পোর্টিং বলার কারণ কী ?

Ans: হিয়ার কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাসের ক্ষুরধার যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে বাংলার সাঁতার দলের নির্বাচকরা বাধ্য হয়ে মাদ্রাজের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির নাম অন্তর্ভুক্ত করেন । কিন্তু প্রায় সমগ্র টুর্নামেন্টে কোনি স্রেফ দর্শক হিসেবে মনের তীব্র জ্বালা নিয়ে বসে থেকেছে । অবশেষে শেষ গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট রিলেতে অমিয়ার অসুস্থতার কারণে কোনির সামনে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ আসে । প্রণবেন্দুবাবু কোনির নাম প্রস্তাব করেন । হিয়া তার কাছে ছুটে যায় । অপমানিতা কোনি অভিমানবশত তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হিয়া এই মন্তব্যটি করে । যদিও সাঁতার অন্ত প্রাণ কোনি ‘ আনস্পোর্টিং ’ তকমা ঝেড়ে ফেলে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল । 

   রিলেতে না – নামতে চাওয়ার পিছনে ছিল কোনির পুঞ্জীভূত ক্ষোভ , যা ছিল সংগত । অন্যদিকে , হিয়ার কাছে ব্যক্তিগত মান – অভিমান , অসন্তোষ – আক্রোশের চেয়ে বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছিল বাংলার স্বার্থ , যা ছিল প্রকৃত খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব । কোনির কাছে চড় খাওয়ার অপমান ভুলেও তাই হিয়া বাংলার স্বার্থে তার কাছে ছুটে গেছে । হিয়া জানত বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কোনিকে প্রয়োজন । জাতীয় ভাবাবেগের কি কোনির কাছে কোনো মূল্য নেই ? এ কথা ভেবেই হিয়া উক্ত মন্তব্যটি করেছিল ।

44. ‘ জলকণায় তৈরি একটা আচ্ছাদনের ঘেরাটোপের মধ্যে কোনি যেন অশরীরী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেউদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো বর্মণবা , সেটা থেকে মুক্তি পাবার জন্য সে বারবার নিজেকে ঝাকুনি দিয়ে যাচ্ছে বস্তুবা পরিস্ফুট করো

 অথবা , শিশু যেমন হাত বাড়িয়ে , দীর্ঘ অদর্শনের পর , মাকে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে , সেইভাবে তার হাত সে বাড়াল এবং বোর্ড স্পর্শ করল উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো  

 অথবা , মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনি যেভাবে সাফল্য পেয়েছিল তা লেখো ।

Ans: ‘ কোনি ‘ উপন্যাস অনুসারে , হিয়া মিত্রের কোচ প্রণবেন্দু উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য তথা বক্তব্যের পরিস্ফুষ্টন বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে কোনি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজগামী বাংলা সাঁতারু দলে জায়গা পেলেও , চক্রান্তের বেড়াজাল ভেদ করতে পারেনি । দলের সঙ্গে মাদ্রাজ গিয়েও অজানা কারণে কোনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে না । দর্শকের মতোই বসে থাকতে হয় তাকে । কিন্তু বাংলা দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অতি গুরুত্বপূর্ণ শেষ ইভেন্ট রিলেতে , অমিয়ার অসুস্থতার কারণে তার পরিবর্তে প্রণবেন্দু কোনির নাম সুপারিশ করেন । এরপর কোনি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রমা যোশিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় । জলের মধ্যে তিরবেগে এগিয়ে যাওয়া কোনিকে তখন মনে হয় যেন কোনো অশরীরী , যে তার পড়ে পাওয়া সুযোগটুকুকে নিংড়ে নিজের সাফল্যকে ছোঁয়ার চেষ্টা করছে । এতদিন ধরে তিল তিল করে অতিকষ্টে সঞ্চিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে অমানুষিক যন্ত্রণাকে অতিক্রম করেছে কোনি , কখন যেন সেই যন্ত্রণাই তার অন্তরের অপ্রাপ্তিগুলিকে ঘুচিয়ে তাকে সকলের আগে তুলে এনেছে । সাফল্যই সেই যন্ত্রণার মুক্তির স্বরূপ । অবশেষে বহুদিন পর মায়ের দর্শনে শিশু যেমন দু – হাত বাড়িয়ে তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে , সেভাবেই বুভুক্ষুর মতো কোনি দু – হাত বাড়িয়ে ফিনিশিং বোর্ড স্পর্শ করে । এভাবেই কোনির সমস্ত যন্ত্রণার অবসান ঘটে ।

ALSO READ :  Madhyamik class 10th Bengali Abhishek Question and Answer

45. ‘ ওই জলের নীচে লুকিয়ে ছিলুম ’— কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এমন মন্তব্য করেছেন ? তার এই কথা বলার কারণ কী ছিল ?

Ans: আর্থিক অনটনের জন্য মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাওয়ার সময় ক্ষিতীশ কোনির সঙ্গে যেতে পারেননি । বিনা টিকিটে ট্রেনে করে মাদ্রাজ যেতে গিয়ে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে লক – আপে বন্দি থাকেন । অবশেষে কোনি যেদিন রিলেতে প্রসঙ্গের উল্লেখ নামার সুযোগ পেল সেদিনই ক্ষিতীশ মুক্তি পেয়ে সেখানে হাজির হন । তাঁকে দেখে কোনি দ্বিগুণ শান্তি পায় এবং অসামান্য দক্ষতায় বিজয়ীর শিরোপা অর্জন করে । প্রতিযোগিতা শেষে ক্ষিতীশের দেখা পেয়ে কোনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করে , ‘ কোথায় লুকিয়েছিলে তুমি ? ‘ উত্তরে ক্ষিতীশ উদ্ধৃত উক্তিটি করেছিলেন । গুরুর ভাবধারা শিষ্যের মধ্যে প্রবাহিত করাই হল শিক্ষাপ্রক্রিয়া — যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে । ক্ষিতীশ তাঁর জীবনদর্শন দিয়ে কোনিকে গড়ে বক্তার প্রশ্নোত বক্তব্যের কারণ তুলেছিলেন । শারীরিক যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে কীভাবে সাফল্যকে ছুঁতে হয় ক্ষিতীশ তা দিনের পর দিন কোনিকে শিখিয়েছেন । কোনির প্রতিদিনের জীবন চালিত হয়েছে ক্ষিতীশের নির্দেশিত পথে । ক্ষিতীশ তার কাছে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও উপস্থিত ছিলেন তার শিক্ষায় , জ্ঞানে , সিদ্ধান্তে । কোনির সবচেয়ে বড়ো অনুপ্রেরক তার দাদা কমল আর ক্ষিদা যেন কখন তার মনের মধ্যে মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল । ক্ষিতীশের সেই অমোঘ নির্দেশ ‘ ফাইট কোনি ফাইট ‘ সর্বদাই কোনির সঙ্গে থাকত । এই পরিপ্রেক্ষিতেই ক্ষিতীশের উদ্ধৃত উদ্ভিটি ।

46. ‘ কোনি উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র সংক্ষেপে আলোচনা করো  

অথবা , সব পারে , মানুষ সব পারে ফাইট কোনি , ফাইট / উপরোক্ত উদ্ধৃতির আলোকে বক্তার চরিত্র আলোচনা করো অথবা , ওইটেই তো আমি রে , যন্ত্রণাটাই তো আমি / –উপরোক্ত উদ্ধৃতাংশের মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে লেখো

Ans: কোনি উপন্যাসে ক্ষিতীশ এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী । ক্ষিতীশের মতে , চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না , তাকে শুধু চিনে নিতে অভিজ্ঞ হয় । গঙ্গার ঘাটে কোনির লড়াকু সত্তাকে চিনে নিতে ভুল করেনি তাঁর অভিজ্ঞ চোখ । ঔদ্ধত্য বা প্রতিকূলতার কাছে এই দৃঢ়চেতা মানুষটি কোনোদিন মাথা নত করেননি । তাঁর বিরুদ্ধে যতই চক্রান্ত করা হোক – না – কেন তিনি নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন । কোনিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য ক্ষিতীশ কঠোর থেকে তার অনুশীলন , শরীরচর্চা , খাওয়াদাওয়া , এমনকি জীবনযাত্রার ধরনকে নিয়ন্ত্রণ অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী করেছেন । তিনি কোনিকে শেখান , যন্ত্রণা আর সময় তার দুই শত্রু । যন্ত্রণাকে জয় করে চেষ্টা করলে ‘ মানুষ সব পারে । তাই প্রতিনিয়ত তিনি কোনিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ‘ ফাইট কোনি , ফাইট ‘ বলে । এই জন্যই ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোনি যখন নিজের যন্ত্রণা ব্যক্ত করছিল তখন ক্ষিদা তাকে বলেছিলেন — ‘ ওইটেই তো আমি রে , যন্ত্রণাটাই তো আমি । ‘ দৈহিকভাবে উপস্থিত না থেকেও ক্ষিতীশ কোনির জেতার প্রবল ইচ্ছে , জেতার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা , প্রচেষ্টার যন্ত্রণা সব কিছুর মধ্যেই ভীষণভাবে উপস্থিত ছিলেন ।

47. ওইটেই তো আমি রে , যন্ত্রণাটাই তো আমি বক্তা কে ? উদ্ভিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো

Ans: প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি করেছেন ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের জুপিটার সুইমিং ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ , ওরফে ক্ষিদ্দা । ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে গিয়েও চক্রান্তের শিকার হতে হয় কোনিকে । অকারণে বসিয়ে রাখা হয় তাকে । অন্য সাঁতারুদের থেকে চোর অপবাদও জোটে । অন্যদিকে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে লকাপে বন্দি হতে হয় ক্ষিতীশ সিংহকে । কার্যত কোনির একমাত্র বিশ্বাসের অবলম্বনও অনুপস্থিত । প্রতিযোগিতা শেষে ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনির দেখা হলে স্বভাবতই কোনির অভিমানী কণ্ঠস্বরে অভিযোগের সুর বেজে ওঠে । কোনিকে শেষ অবধি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করাতে বাধ্য হয় চক্রান্তকারীরা । জয়লাভ করে বাংলার হয়ে সোনাও অর্জন করে । ক্ষিদাকে তথা তার ট্রেনার ক্ষিতীশ সিংহকে তার প্রতিযোগিতার মুহূর্তের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে ক্ষিদ্দা জলের গভীরে তার যে উপস্থিতি অর্থাৎ একজন সাঁতার ট্রেনারের কাছে জলই যে সব তাই নির্দেশ করেন । প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে যে প্রবল যন্ত্রণা কোনি পেয়েছে তার স্বরূপ বিশ্লেষণে ক্ষিদ্দা জানিয়েছেন , ওই যন্ত্রণাই তিনি । অর্থাৎ ক্ষিতীশ সংসার ভুলেছেন , নিজের ব্যক্তিসুখ বিসর্জন দিয়েছেন কোনি নামক একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে । সহ্য করেছেন বহু লাঞ্ছনা – অপমান । অপমানের সেই তীব্র যন্ত্রণাটা না – থাকলে ক্ষিতীশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারতেন না , তৈরি করতে পারতেন না কোনিকে । দিনের পর দিন যন্ত্রণার আগুনে পুড়িয়ে ইস্পাতকঠিন করেছেন কোনিকে । এই যন্ত্রণা একজন ট্রেনার ও একজন ট্রেনির উভয়েরই । আলোচ্য উক্তিটি প্রকৃতপক্ষে ক্ষিতীশের সংগ্রামী চেতনারই উদ্ভাসিত রূপ ।

48. ফাইট কোনি ফাইট সাধারণ মেয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরনের ফাইট করতে হয়েছিল , নিজের ভাষায় লেখো

 অথবা , দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই তা সংক্ষেপে আলোচনা করো

Ans: কোনি জন্মসূত্রেই ছিল এক জাত ফাইটার । শ্যামপুকুর বস্তির এই মেয়েটি জীবনের শুরু থেকেই টিকে থাকার লড়াই করতে অভ্যস্ত । জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই তার লড়াই শুরু হয়েছিল । দারিদ্র্য আর দুর্ভাগ্যের সঙ্গে । বাবার মৃত্যুর পর দাদা হাল ধরলেও সংসারের নৌকায় গতি আসেনি । তাই অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যায় কোনি । রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় সে হিয়া মিত্রের কাছে হেরে যায় শুধুই টেকনিক না – জানার কারণে । কিন্তু যথার্থ ফাইটারের মতোই সে এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি । ক্ষিতীশ তাকে সাঁতার শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু হয় কোনির জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের লড়াই । প্রথমে জুপিটার ক্লাবে ভরতির পরীক্ষা দিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েও , শুধু ক্ষিতীশ সিংহের স্থানাভাবের কারণ দেখিয়ে তাকে ভরতি নেওয়া সহায়তায় কোনির হয় না । ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনির ভাগ্য জড়িয়ে জীবনসংগ্রাম পড়ায় একের পর এক প্রতিবন্ধকতা তাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায় । জুপিটার সুইমিং ক্লাবের প্রতিযোগিতায় কোনির এনটি গৃহীত না – হলেও ক্ষিতীশের চেষ্টায় সে সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তার প্রতিভা ও অবস্থান । স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে সে চক্রান্তের শিকার হয়ে দু – বার ডিসকোয়ালিফাই ও একবার প্রথম হয়েও দ্বিতীয় বলে ঘোষিত হয় । ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাম্রাজে গিয়েও তাকে অকারণে বসিয়ে দেওয়া হয় । এমনকি , অন্য সাঁতারুদের কাছ থেকে চোর অপবাদও জোটে তার । কিন্তু অমিয়ার পরিবর্ত হিসেবে জলে নামার সুযোগ পেয়ে সে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছিল । এভাবেই গঙ্গার এক সাধারণ সাঁতারু থেকে জাতীয় স্তরে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করা এক অপ্রতিহত জীবনযোদ্ধার নাম হয়ে ওঠে কোনি ।

49. কোনির জীবনে ফিদ্দার অবদান আলোচনা করো

Ans:  সাধারণ এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে থেকে নিজের একগুঁয়েমি , নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে পাথেয় করে কোনির কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় উত্তরণের পিছনে যে মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য , তিনি হলেন কোনির ‘ ক্ষিদা অর্থাৎ ক্ষিতীশ সিংহ । প্রতিভাকে চিনে নিয়ে তাকে সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে চালনা করতে যে – অভিজ্ঞতার প্রয়োজন , তা ক্ষিতীশের ছিল । ক্ষিতীশ দেশের জন্য গৌরব এনে দেওয়া একজন খেলোয়াড় তৈরি করতে জলের মতো অর্থব্যায় করেছেন । নিজের রোজগার বা অন্য কোনো স্বার্থের জন্য নয় , কোনিকে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কেবল একজন সুযোগ্য খেলোয়াড় তৈরির জন্য । নিজের সংসারে অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনির নিয়েছেন , কোনি অনিচ্ছুক হলেও তাকে দিয়ে প্রবল খাওয়া – ঘুমের পরিশ্রম করিয়েছেন , আবার বড়োদাদার মতো তাকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে গেছেন কুমির দেখাতে । যে – ক্ষিদা কোনি কেঁদে ফেললেও প্র্যাকটিস থেকে রেহাই দেননি ; খাওয়ার টোপ দিয়ে সাঁতার কাটানোর মতো অমানবিক আচরণ করেছেন , তিনিই আবার কোনি ঘুমিয়ে পড়লে তার মাথায় হাত বুলিয়েছেন । ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কোনি নিজেকে প্রমাণ করার পর তার মাথার ওপর ঝরে পড়েছে তাঁর আনন্দাশ্রু । 

50. ক্ষিদ্দা কীভাবে কোনির জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করো  

অথবা , কোনি উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহের যে জীবনদর্শন ব্যক্ত হয়েছে , তা আলোচনা করো

Ans: ‘ কোনি ‘ উপন্যাসে কোনির ‘ ক্ষিদ্দা ’ অর্থাৎ ক্ষিতীশ সিংহ আগাগোড়া এক ব্যতিক্রমী মানুষ । উপন্যাসের শুরুতে বিষ্টুচরণের সঙ্গে কথোপকথনে ক্ষিতীশ নিজের শরীরকে চাকর বানানোর পরামর্শ দেন এবং পরক্ষণেই তার প্রমাণও দেন । তখনই পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্ষিতীশের ভিতরকার এক সুস্থ – সবল যুবক যেন আমাদের চোখে পড়ে । তিনি বিস্টুকে জানান যে , শুধু গায়ের জোর নয় , বরং মানসিক জোর বা ইচ্ছাশক্তিও জরুরি । আবার চ্যাম্পিয়ন তৈরি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য , ক্ষিদার প্রেরণায় প্রশিক্ষককে মনস্তাত্ত্বিক হতে হয় । গুরুকে শিষ্যের কাছে শ্রদ্ধেয় হতে হয় । কথা , কাজ ও উদাহরণ দিয়ে তার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে হয় । তাঁর ঘরে পাখা ছিল না , বিছানাও ছিল না । কারণ তিনি মনে করতেন যে , চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু শিষ্যকেই নয় , গুরুকেও কঠোর জীবনযাপন করতে হয় । ক্ষিতীশের মতে , ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার জন্য সময় ও শক্তির অপচয় করা ছেড়ে দেশের জন্য গৌরব আনতে হবে । চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না । তাদের চিনে নিতে হয় । কোনিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শিক্ষা দিতে গিয়ে ফিন্দা তাকে চরম খাটিয়েছেন ; তাকে পরামর্শ দিয়েছেন যন্ত্রণা আর সময়কে হারানোর ; নিজেকে যন্ত্রণার সঙ্গে একাত্ম করেছেন । আর এই জন্যই ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর কোনিকে যন্ত্রণার কথা বলতে শুনে তার ক্ষিদা তাকে বলেছিলেন , ‘ ওইটেই তো আমি রে , যন্ত্রণাটাই তো আমি ।

51. কোনি চরিত্রটি আলোচনা করো

Ans: যে – চরিত্রের নামানুসারে ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের নামকরণ , সেটিই যে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হবে , তা বলাই বাহুল্য । শ্যামপুকুর বস্তির এই ডানপিটে স্বভাবের মেয়েটির সাফল্যের শিখর ছোঁয়ার কাহিনির মধ্যে দিয়ে । তার চরিত্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পাঠকের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় । গল্পের শুরুতে গঙ্গায় আম কুড়োনো থেকে শুরু করে , ক্লাইম্যাক্সে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের সুইমিংপুলে সর্বত্রই লড়াকু কোনির লড়াকু মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় । 

  শুধু সাঁতারের ক্ষেত্রে নয় , জীবনযুদ্ধের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে নির্ভীকভাবে লড়াই চালায় প্রতিপক্ষ আর প্রতিকূলতার সঙ্গে । দারিদ্র্য , খিদে , কায়িক শ্রম— যে – কোনো কষ্টকেই কোনি দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নেয় । তার শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহও কষ্টসহিষু তাকে সেই শিক্ষাই দেন । 

  তার এই কষ্টসহিষ্ণুতা আর অধ্যবসায়ই শেষপর্যন্ত তাকে সাফল্য এনে দেয় । জীবনে বারবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও কখনোই ভেঙে পড়ে না কোনি । সমস্ত দুর্ভাগ্য , প্রতিবন্ধকতা , অপমান আর চক্রান্তের দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করে সে । তার জেদ আর দৃঢ় মনোভাবের দৃঢ়চেতা মধ্যে ক্ষিতীশ সিংহ খুঁজে পান লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নকে । হিয়া কোনিকে ‘ আনস্পোর্টিং ‘ বললেও সমগ্র উপন্যাস জুড়েই আমরা তার খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবেরই পরিচয় পাই । শেষপর্যন্ত হিয়ার ‘ আনস্পোর্টিং ‘ অপবাদের জবাবও খেলোয়াড়সুলভ সে খেলোয়াড়সুলভ ভাবেই দেয় । তাই সব মিলিয়ে কোনি হয়ে ওঠে জীবনযুদ্ধের এক নির্ভীক সৈনিক ।

52. অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল কোনি কাভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল তা সংক্ষেপে লেখো

Ans: উদ্ধৃতাংশটি মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাস থেকে গৃহীত । বস্তির মেয়ে কোনির সাঁতার কাটার শুরু গঙ্গায় । সেখান থেকে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা করে নেওয়ার পথটা তার জন্য নেহাত সাঁতার দলে জায়গা পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ সহজ ছিল না । দারিদ্র্য ও অশিক্ষার কারণে তাকে পদে পদে হেনস্থা হতে হয়েছে তথাকথিত শিক্ষিত , সভ্যসমাজের কাছে । বিশেষত , ক্ষিতীশ সিংহের ছাত্রী হওয়ার দরুন বারবার ক্লাবের সংকীর্ণ রাজনীতি , দলাদলি ও চক্রান্তের শিকার হয়েছে কোনি । কিন্তু তার প্রশিক্ষক প্রতিনিয়ত উৎসাহ জুগিয়েছেন তাকে । কোনির বাংলা দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে অবশ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাস । কোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও কোনির বিরুদ্ধে ঘটে চলা হীন চক্রান্তের প্রতিবাদ করেন তিনি । সংকীর্ণ দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বলেন , ‘ বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাপা পালকে টিমে রাখতে কোনির সাঁতার দলে হবে । ‘ তাঁর অভিজ্ঞ চোখ কোনির প্রতিভাকে চিনে স্থায়ী জায়গা লাভ : নিতে ভুল করেনি । তাই তিনি বুঝেছিলেন , মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে ফ্রি স্টাইলে হারাতে হলে কিংবা স্প্রিন্ট ইভেন্টে জিততে গেলে বাংলা দলে কোনিকে রাখতেই হবে । এমনকি কোনিকে দলে না নিলে প্রণবেন্দু নিজের ক্লাবের সাঁতারুদের নাম প্রত্যাহার করার হুমকিও দেন । এভাবেই নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি প্রণবেন্দু বিশ্বাসের ইতিবাচক ভূমিকায় বাংলা দলে জায়গা পায় কোনি ।

53. বিচরণ চরিত্রটির মধ্যে হাস্যরস সততার যে পরিচয় রয়েছে , তা আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও  

অথবা , কোনি উপন্যাসে বিচরণ ধরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো  

Ans: ‘ কোনি ‘ উপন্যাসে কোনির সাফল্যলাভ ও ক্ষিতীশের অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রামের মধ্যে যে চরিত্রের উপস্থিতি কমিক রিলিফ এনেছে , তা হল বিস্টুচরণ ধর ওরফে বেষ্টাদা । মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া ও পরিশ্রমের অভাব অর্থবান পরিবারের সন্তান বিষ্টুচরণকে সাড়ে তিনমনি দেহের একটি ছোটোখাটো পাহাড়ে পরিণত করেছে । প্রথম দর্শনেই মালিশওয়ালাকে ‘ তানপুরো ছাড় ’ , ‘ ‘ তবলা বাজা ‘ , ‘ সারেগামা কর ’ ইত্যাদি নির্দেশ দিয়ে সে পাঠকের মনকে আকৃষ্ট করে । তাকে দ্বিতীয়বার দেখা যায় অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতার সভাপতির পদে । ক্ষিতীশের কাছে | শোনা কথাগুলির অনুকরণ এবং ক্ষিতীশের রসিকতাপূর্ণ বাক্যগুলি , পাঠককে তার সম্পর্কে আরও কৌতূহলী করে তোলে । বিষ্টু ধর সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়াবার প্রস্তুতি হিসেবে জনমত গঠনের চেষ্টায় টাকা দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করায় ও সেইসব অনুষ্ঠানে সভাপতি হয়ে বক্তৃতা দেয় । এই কারণে ক্ষিতীশকে সে তার বক্তৃতা লেখক হিসেবে বহাল করে । বিভিন্ন সময়ে ক্ষিতীশ ও বেষ্টদা পরস্পরের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছে । ক্ষিতীশের জ্ঞান , বুদ্ধি ও জীবনদর্শনে বিধরও প্রভাবিত হয়েছিলেন । ক্ষিতীশের প্রতি বিস্টুর শ্রদ্ধা ছিল অকৃত্রিম । তাই লীলাবতীর দেওয়া টাকা কিংবা অ্যাপোলো ক্লাবের ডোনেশন— এসব কোনো ক্ষেত্রেই সে ক্ষিতীশের কথার অমান্য করেনি । জুপিটার ক্লাবের সদস্যদের চক্রান্তে প্রতিযোগিতায় কোনির নাম বাদ গেলে বিচরণ প্রেস কনফারেন্স ডাকা , ডিমনস্ট্রেশন দেওয়া , মিছিল করা ইত্যাদির কথা ভাবতে থাকে । জুপিটারের কম্পিটিশনের বাইরে থেকেও কোনি যখন অমিয়াকে পরাজিত করে , তখন সে অতি উত্তেজনায় প্রথমে অজ্ঞান হয়ে গেলেও জ্ঞান ফিরলে দশ কেজি রসগোল্লার অর্ডার দেয় । সুতরাং , বিষ্টুচরণ চরিত্রটির মধ্যে আমরা মজা ও হাসির উপাদানের পাশাপাশি সরলতা ও সততার পরিচয় পাই ।

54. হিয়া মিত্রের চরিত্র আলোচনা করো

Ans: হিয়া মিত্র অভিজাত বিত্তবান পরিবারের সন্তান । কোনির মতো দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চ্যালেও তাকে নিতে । হয়নি । বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণবেন্দু বিশ্বাসের মতো কোচ পেতে তাকে কোনো লড়াই জিততে হয়নি । 

  বিত্তবান পরিবারের মেয়ে হলেও হিয়া মাটিতে পা রেখে চলতে জানে । অমিয়ার মতো তাকে কখনও অপমানজনক মন্তব্য করতে শোনা যায় না । মজা করে বেলার ক্রিমের কৌটো থেকে ক্রিম নিয়ে নিজে মেখে কোনির গালে লাগিয়ে দিতে হিয়ার এতটুকু দ্বিধা নেই । এই সহজসরল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনির কাছে তাকে চড়ও খেতে হয় । ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রিলে রেসে অমিয়ার পরিবর্ত হিসেবে । কোনিকে ডাকতে ছুটে আসে হিয়া । 

  গোটা উপন্যাসে খেলোয়াড়সুলত তার মুখে কোনির বিরুদ্ধে কেবল দুটি কথা শোনা যায় । প্রথম , অত হিংসে ভাল নয় ‘ এবং দ্বিতীয় যখন কোনি রিলে নামতে রাজি হয় না তখন ‘ কোনি তুমি আনস্পোর্টিং ‘ । হিয়া ছিল কোনির দুর্বলতা । হিয়াকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যেই যেন কোনির সাফল্যের সূত্রপাত । তাই কোনির উত্থানের পিছনে হিয়া মিত্রের পরোক্ষ অবদানও অস্বীকার করা যায় না ।

55. লীলাবতী চরিত্রটি কীভাবে অন্যতম সহযোগী হয়ে উঠেছে , তা কোনি উপন্যাস অবলম্বনে আলোচনা করো

Ans: ‘ কোনি ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যদি হয় কোনি ও ক্ষিতীশ , তা হলে এই দুই চরিত্রকে ধারণ করে রেখেছে ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী । সে কেবল ক্ষিতীশের মেরুদণ্ড বা support system হিসেবেই কাজ করেনি , এক প্রথর ব্যক্তিত্ব ও নিজস্বতারও ছাপ রেখেছে গোটা উপন্যাস জুড়ে । 

  সংসার চালানোর অর্থের উৎস যে – দোকানটি , তার উন্নয়নের জন্য দোকানটিকে ক্ষিতীশের হাত থেকে উদ্ধার করে নিজে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে লীলাবতী । সেজন্য নিজের গহনা বন্ধক দিয়েছে এবং প্রচুর পরিশ্রম করে দোকানটি দাঁড় করিয়েছে । উদ্যমী কোনিকে প্রশিক্ষণ দিতে ক্ষিতীশের এক পয়সা রোজগার তো হয়ই । না , বরং নিজের পয়সা খরচ করে কোনির দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্না খাওয়াদাওয়ার ভার নিতে হয় । কিন্তু লীলাবতী এ নিয়ে কোনো অসন্তোষ প্রকাশ করে না , শুধু নতুন দোকানের সেলামি বাবদ টাকা দিতে হবে বলে ব্যয়সংকোচের কথা স্বামীকে মনে করিয়ে দেয় । ক্ষিতীশ স্ত্রীর প্রখর ব্যক্তিত্বকে ভয় করলেও লীলাবতী কিন্তু স্বামীকে শ্রদ্ধা করে । তাই স্বামীর এঁটো থালায় খেতেও সে স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল কুণ্ঠাবোধ করে না । ক্ষিতীশ দৈহিক সুস্থতার হেতু দেখিয়ে সেদ্ধ খাওয়া চালু করলে , অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে তা মেনে চলে । ক্ষিতীশ বিচরণের কাছ থেকে সেলামির টাকা উদ্ধার করে দেবে জানালে সে স্বামীর সে – কথা কায়মনোবাক্যে বিশ্বাস করে । খাওয়াদাওয়ার শর্তে কোনিকে তার দোকানে কাজ করতে হয় , যদিও কোনিকে লীলাবতী বেতনও দেয় । দোকানে যেতে দেরি হলে লীলাবতী সহানুভূতিশীল । যেমন কোনিকে বলে ‘ বেরিয়ে যাও ’ , তেমনই জুপিটার ক্লাবের প্রতিযোগিতা জিতলে কোনিকে সিল্কের শাড়ি পুরস্কার দেওয়ারও কথা দেয় । মোটের উপরে , লীলাবতী চরিত্রটিকে ক্ষিতীশের প্রধান সহযোগী চরিত্র বললে চরিত্রটির যথার্থ মূল্যায়ন করা হয় ।

56. ফিতীশ সিংহ কোনিকে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন করানোর জন্য যে কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন , তার পরিচয় দাও

Ans: নিষ্ঠাবান সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ কোনির ভিতরে লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষণগুলিকে চিনতে পেরেছিলেন । তাই তাকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর লক্ষ্যে তিনি তার জন্য কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন । প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কোনির কঠোর দু – সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষিতীশ কোনিকে সাঁতারের অনুশীলন বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দিয়েছিলেন । কিন্তু প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছ – টা থেকে সাড়ে আটটা— দু – ঘণ্টা ধরে প্র্যাকটিস চালিয়েও কোনি সেসব কৌশল আয়ত্ত করে উঠতে পারেনি । তখন ক্ষিতীশ তাকে একটা কস্টিউম আর প্রতিদিন দুটো ডিম , দুটো কলা আর দুটো টোস্টের বিনিময়ে বাড়তি আরও এক ঘণ্টা করে প্র্যাকটিসের জন্য রাজি করান । এভাবে ক্ষুধার্ত মানুষকে লোভ দেখিয়ে পরিশ্রম করানোটা অমানবিক জেনেও কোনির স্বার্থেই তিনি একাজ করেন । অনুশীলন চলাকালীন কোনি ক্লান্ত হয়ে জল ছেড়ে উঠে আসতে চাইলে ক্ষিতীশ বাঁশের লগা নিয়ে তার দিকে তেড়ে গিয়ে তার মাথা ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখাতেন । আবার এরই পাশাপাশি কোনির স্বাস্থ্যের যত্নও নিতেন তিনি । সে যাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারদাবার খেতে পারে , সেজন্য নিজের বাড়িতে কোনির খাওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি । কোনির ওয়েট ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও তিনি করেন । শীতকালেও তিনি কোনির প্র্যাকটিস জারি রাখেন । মহারাষ্ট্রের রমা যোশি ৭২ মিনিটে ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল শেষ করলে ক্ষিতীশ কোনির চোখের সামনে ‘ ৭০ ’ লিখে রেখে তাকে প্রতিনিয়ত উজ্জীবিত করেন । এভাবেই ক্ষিতীশের কঠোর প্রশিক্ষণে দক্ষ সাঁতারু হয়ে ওঠে কোনি । 

57. ‘ আমি কি ঠিক কাজ করলাম ? অ্যাপোলোয় যাওয়া কি উচিত হলো ? আমি কে ? সে অ্যাপোলোয় কেন গিয়েছিল ? অ্যাপোলোয় যাওয়া নিয়ে তার মনে দ্বন্দ্বের কারণ কী ?

Ans: প্রশ্নোদৃত অংশটি মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের অন্তর্গত । এখানে ‘ আমি ’ বলতে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের কথা বলা হয়েছে । → ক্ষিতীশ ছিলেন জুপিটার ক্লাবের চিফ ট্রেনার । কিন্তু সেখানে তিনি ঘৃণ্য ক্রীড়া – রাজনীতির শিকার হন । আদর্শবাদী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ ক্ষিতীশ উদীয়মান সাঁতারুদের মধ্যে কোনোরকম শৈথিল্য পছন্দ করতেন না । এই জন্য ক্লাবের সাঁতারুদের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য দেখা দেয় । সেইসঙ্গে হরিচরণের চিহ্ন ট্রেনার হওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে ক্ষিতীশের বিপক্ষে নিয়ে যায় । ক্লাব পরিচালনা নিয়ে ক্লাবের কর্মকর্তা – সদস্য ও সাঁতারুদের সঙ্গে তাঁর মানসিকতার বিস্তর ব্যবধান গড়ে ওঠে । ক্লাবের সভায় তাঁর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে অপমান করায় তিনি জুপিটার ছেড়ে দেন । কিন্তু কোনিকে সাঁতার শেখানোর সংকল্পকে বাস্তবায়িত করতেই শেষে তিনি অ্যাপোলোয় যোগ দেন । 

  সাঁতার অন্ত প্রাণ ক্ষিতীশ জুপিটারকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন । তাঁর সঙ্গে জুপিটার ক্লাবের সম্পর্ক ছিল পঁয়ত্রিশ বছরের । জুপিটারকে গৌরবান্বিত করার জন্য কিংবা ভারতসেরা করার জন্য ক্ষিতীশের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না । ক্লাবের ভালোমন্দের কথা ভাবতে গিয়েই তিনি মন দিয়ে দোকান সামলাতে পারেননি । অথচ পরিণামে সেই ক্লাব থেকেই তাঁকে সরে গিয়ে ; চিরশত্রু অ্যাপোলোর শরণাপন্ন হতে হল । কয়েকজন লোভী , মূর্খ ও স্বার্থপরের ষড়যন্ত্রে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে হাত মেলাতে হল । মানসিক এই টানাপোড়েনেই ক্ষিতীশ অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন ।

58. এবার বরং প্রজাপতিকে দেখাশুনা করো বক্তা কে ? প্রজাপতি কী ? বক্তা কেন এমন উপদেশ দিয়েছেন ?

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা ভেলো । 

  → ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী , টেলারিং – এ ডিপ্লোমা পাওয়া দুটি মেয়েকে ‘ প্রজাপতি ‘ কী ? নিয়ে বাচ্চা ও মহিলাদের পোশাক তৈরি করার জন্য ; সিনহা টেলারিংকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলে গড়ে তোলে ‘ প্রজাপতি ‘ । বক্তার প্রশ্নোদ্ভূত উপদেশের কারণ → সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশের জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে পঁয়ত্রিশ বছরের সম্পর্ক । অথচ ক্লাবের ঘৃণ্য ক্রীড়া – রাজনীতির শিকার হতে হয় তাঁকে । ক্লাবে সভা ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তাঁকে একপ্রকার ক্লাব ছাড়তে বাধ্য করা হয় । কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছর ধরে কমলদিঘির জলের শ্যাওলা আর ঝাঁঝির আঁশটে গন্ধই তাঁকে সাহস জুগিয়েছে । তাঁর মনে হয়েছে , এমন সুঘ্রাণ হয়তো আর কোথাও নেই । আজ হঠাৎ সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়া দিশাহীন ক্ষিতীশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন । নিজের শিষ্যসম ভেলোর কাছে জানতে চেয়েছেন যে , কী করা যায় । তখন ভেলো উপরোক্ত পরামর্শটি দেয় । একলা মেয়েমানুষ লীলাবতীর চালু দোকান সামলাতে হিমশিম অবস্থা , তাই ক্ষিতীশের উপস্থিতিতে সুবিধাই হবে ভেবে ; সে এমন পরামর্শ দিয়েছিল ।

59. ‘ অভিনন্দন আর আদরে সে ডুবে যাচ্ছে ’— সে বলতে কার কথা বলা হয়েছে ? যে অভিনন্দন আর আদরে ডুবে যাচ্ছে , তার সংগ্রামী জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও

Ans: প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি মতি নদীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের অন্তর্গত । এখানে ‘ সে ’ বলতে কোনির কথা বলা হয়েছে । দ্বিতীয় অংশের জন্য 48 নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো ।

60. ‘ ভারিবিচালে বিস্টুধর ঘোষণা করল এবং গলার স্বরে বোঝা গেল এর জন্য সে গর্বিত / বিস্টুধর ভারিভিচালে কী ঘোষণা করেছিল সে যে বিষয়ের জন্য গর্ববোধ করত তার পরিচয় দাও

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের একটি বর্ণময় চরিত্র বিষ্টুচরণ ধর । মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া আর কুঁডেমির ফলে ধনী বিখুঁচরণ প্রায় একটি বিধরের সাড়ে তিনমনি দেহের চর্বির পাহাড়ে পরিণত ভারিতিকালে ঘোষণা হয়েছে । অথচ তার ধারণা , সে যথেষ্ট সংযমী জীবনযাপন করে । তাই বিঈধর ভারিকিচালে ঘোষণা করে যে , খাওয়ার প্রতি তার কোনো লোভ নেই এবং সে নিয়মিত ডায়টিং করে ।

   → সে নিজের ডায়টিং – এর নমুনা পেশ করতে গিয়ে বলে , আগে রোজ আধ কিলো ক্ষীর খেলেও এখন মোটে তিনশো গ্রাম যায় । সেভাবেই জলখাবারের কুড়িটা লুচি এখন কমে দাঁড়িয়েছে পনেরোয় । রাতে মাপমতো আড়াইশো গ্রাম চালের ভাত আর খানবারো রুটি । ঘি খাওয়া প্রায় বন্ধ , তবে গরম ভাতের সঙ্গে নাত্র চার চামচ ; এর বেশি একবিন্দুও নয় । বিকেলের জন্য বরাদ্দ দু – গ্লাস মিছরির শরবত আর চারটে কড়াপাকের সন্দেশ । বাড়িতে রাধাগোবিন্দের মূর্তি থাকায় মাছ – মাংস ছুঁয়েও দ্যাখে না । সুতরাং , সংযম কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যেই সে বেঁচে আছে । এই জন্যেই তার গর্ব ।

61. সফল সাঁতারু হওয়ার ক্ষেত্রে কোনির প্রতিবন্ধকতাগুলি কী ছিল ? সেগুলি কাটিয়ে উঠতে ক্ষিতীশ সিংহ তাকে কীভাবে সাহায্য করেছিলেন ?

Ans: সাঁতারু হওয়ার ক্ষেত্রে কোনির প্রতিবন্ধকতা উত্তর / মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র কোনি এক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে । বস্তিবাসী কোনির মধ্যে সাহস – জেদ – অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না । কিন্তু তার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিকূলে । পেটের খাবারের কিংবা শিক্ষার অভাব এবং মা ও সাত ভাই – বোনের সংসারে সীমাহীন দারিদ্র্যের সঙ্গে দিনযাপন— এসব কোনো কিছুই উপেক্ষা করা কোনির পক্ষে সহজ ছিল না । সেইসঙ্গে এটাও স্বীকার্য , সত্যিকারের সাঁতারু হয়ে উঠতে গেলে শুধু সাঁতার জানলেই চলে না , উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আর সাধনার প্রয়োজন হয় । এই এতকিছু ‘ নেই’— এর মধ্যেও ক্ষিদ্দা তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নের সহজাত লক্ষণটিকে ঠিক চিনতে পেরেছিলেন । 

  ক্ষিতীশ বুঝেছিলেন পেটের খিদে নিয়ে কোনো মহৎ কাজ করা যায় না । তাই তিনি কোনির পেটের খাবারের সঙ্গে তার মাকেও কাজ জুটিয়ে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দিয়ে ; তাদের পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাটুকু পুরণের উঠতে ক্ষিতীশ চেষ্টা করেছিলেন । তিনি কোনিকে দিনের – পর – দিন সিংহের সহযোগিতা শিখিয়ে গেছেন শারীরিক যন্ত্রণাকে অতিক্রম করার কৌশল । কোনির দিনরাত নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ক্ষিতীশের নির্দেশিত পথে । কোনির নিষ্ঠায় , সংকল্পে ও জ্ঞানে তিনিই হয়ে উঠেছেন অদৃশ্য অনুপ্রেরণা । ‘ ফাইট কোনি ফাইট’— এই মন্ত্রের উজ্জীবনী স্পর্শেই কোনি কমলদিঘির জল থেকে মাদ্রাজে পৌঁছে , যন্ত্রণাকে সাফল্যের স্তরে বদলে দিতে পেরেছিল ।

62. রমা যোশির ক্লান্ত হাত কোনির পিঠে চাপড় দিয়ে গেল রমা যোশি কে ? কী কারণে সে কোনির পিঠ চাপড়ে দিয়েছিল ?

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাস অনুসারে মহারাষ্ট্রের মহিলা সাঁতারু রমা যোশি ছিল সবচেয়ে দক্ষ এবং মহিলাদের মধ্যে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন । 

  কোনি অবশেষে হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজগামী বাংলা সাঁতারু দলে জায়গা পায় । কিন্তু সেখানে তার স্থান হয় দর্শকাসনে । ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার কোনিকে কোনো প্রতিযোগিতাতেই অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না । তবে শেষ ইভেন্ট ৪ × ১০০ মিটার রিলে শুরু হওয়ার আগেই অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে । তখন প্রণবেন্দুর তৎপরতায় সকলে কোনিকে ফোনির পিঠ নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় । রমা যোশির চাপড়ানোর কারণ । প্রায় তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে পড়ে । প্রথম তিরিশ মিটার খুব একটা কিছু বোঝা না গেলেও , তারপরেই দর্শকেরা টের পায় আজ একটা কিছু ঘটতে চলেছে । নিজের সমস্ত দুঃখ – যন্ত্রণা – বেদনা ও অপ্রাপ্তিকে কোনি জলের মধ্যে উজাড় করে দেয় । জলের মধ্যে কালো প্যান্থারের মতো এগিয়ে চলা কোনিকে অশরীরী বলে মনে হয় । সে যেন অন্ধকারের যন্ত্রণা ছিঁড়ে মাকে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়া শিশুর মতো ; রমা যোশির আগেই হাত দিয়ে বোর্ড স্পর্শ করে । এরপর জল থেকে উঠে সকলের অভিনন্দন আর আদরে কোনি ডুবে যেতে থাকে । তখন পরাজিত রমা যোশির ক্লান্ত হাত তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে যায় ।

63. ‘ জাতীয় সাঁতারের আজ শেষ দিন কোথায় জাতীয় সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ? শেষ দিনের অবিস্মরণীয় ঘটনাটির বিবরণ দাও

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ’ উপন্যাস অনুসারে জাতীয় সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাদ্রাজের চিপকে সমুদ্রতীরের সুইমিং পুলে । দ্বিতীয় অংশের জন্য 48. নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো ।

64. ‘ বিষ্টুধরের বিরক্তির কারণ হাত পনেরো দুরের একটা লোক বিস্টুধর কে ? তার বিরক্তির কারণ কী ?

Ans: প্রথম অংশের জন্য 3 নং প্রশ্নের উত্তরের প্রথম অংশটি দ্যাখো । বারুণীর দিন এই বিস্টুধর যখন গঙ্গার ঘাটে উপুড় হয়ে মালিশ উপভোগ করছে , তখন সাদা লুঙ্গি – গেরুয়া পাঞ্জাবি ও কাঁধে রঙিন ঝোলা নিয়ে ক্ষিতীশ সিংহ ওরফে ক্ষিদ্দা , সেদিকে তাকিয়ে বিষ্টুধরের বিরক্তির মুচকি হাসছিলেন । বেষ্টাদা ভালোভাবেই বোঝে , এ হাসির কারণ তার শরীরের আয়তন । বাচ্চা ছেলেরাও এমন হাসে কিন্তু একটা বয়স্ক লোকও তাকে দেখে হাসছে দেখে । সে বিরক্ত হয়েছিল ।

65. টেবিলের মুখগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠল , কেউ মাথা নাড়ল , কেউ নড়েচড়ে বসল / টেবিলের কোন্ কোন্ মুখের কথা বলা হয়েছে তাদের মুখ উজ্জ্বল হওয়ার কারণ কী ?

Ans: প্রশ্নোদৃত অংশটি মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের অন্তর্গত । এখানে ‘ টেবিলের মুখগুলি বলতে জুপিটার ক্লাবের বিভিন্ন কর্মকর্তার কথা বলা হয়েছে । এরা হলেন ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট টেবিলের মুগুলির ও বিধায়ক বিনোদ ভড় , সম্পাদক ধীরেন ঘোষ , যজ্ঞেশ্বর ভট্টাচার্য , প্রযুণ্ণ বসাক , বদু চাটুজে , কার্তিক সাহা ও হরিচরণ মিত্র । 

  → জুপিটারের সাঁতারুরা ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছিল তা সত্য হলেও পিছনে কিন্তু ক্রীড়া – রাজনীতির হাত ছিল যথেষ্টই । অভিযোগগুলি হল— 

> দক্ষ সাঁতারু শ্যামলের সময়কে আমেরিকার বারো বছরের মেয়েদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে জুনিয়রদের কাছে তাকে অপমান করা । 

> গোবিন্দের মতো ব্রেস্ট – স্ট্রোক বেঙ্গল রেকর্ড হোল্ডার ও ন্যাশনালে প্রতিনিধিত্বকারীকে কান ধরে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা । 

> আর – এক দক্ষ সাঁতারু অসুস্থ সুহাসের বাড়ি গিয়ে তার বাবাকে যা – তা বলা । 

  → দুই মহিলা সাঁতারু অমিয়া ও বেলার পোশাক , চুলকাটা ইত্যাদি নিয়ে খিটখিট করা , তাদের জোর করে ব্যায়াম করানো । 

  → সাঁতারুদের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অর্জনে এবং তাদের মেজাজমর্জি বুঝতে কোনো মেডেল জেতার ইতিহাস না থাকা । ক্ষিতীশ এই সমস্ত অভিযোগ সত্য বলে মেনে নেওয়ায় টেবিলের মুখগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল ।

66. প্রথমদিকে লীলাবতী বিদ্রোহী হয়েছিল ’— লীলাবতীর চরিত্রের পরিচয় দাও তার বিদ্রোহী হওয়ার কারণ কী ?

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল লীলাবতী । স্বল্পভাষী , কর্মপটু , বাস্তববাদী ও প্রখর ব্যক্তিত্বময়ী এই মহিলাই যেন ; কোনি এবং ক্ষিতীশকে ধারণ করে রেখেছে । সে ক্ষিতীশের স্ত্রী হলেও কখনোই ক্ষিতীশের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়নি । তাই লীলাবতীর চরিত্র দোকানের বেহাল অবস্থায় সেটিকে ক্ষিতীশের হাত থেকে উদ্ধার করে সে চার বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছে । কোনির প্রতি ক্ষিতীশের দায়দায়িত্বের বহর দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেনি । বরং স্বামীকে সেলামির প্রসঙ্গে ব্যয়সংকোচের কথা সে মনে করিয়ে দিয়েছে । খাবারের ব্যাপারে স্বামীর নির্দেশ মুখ বুজে সহ্য করে নিয়েছে । আবার কোনিকে খাওয়ার শর্তে দোকানে কাজ করতে দিয়েছে , যদিও এজন্য সে বেতনও দিয়েছে । কিন্তু কাজে দেরি হলে কোনিকে যেমন ‘ বেরিয়ে যাও ‘ শুনতে হয়েছে , তেমন সাঁতারে জিতলেই মিলেছে ফ্রক কিংবা সিল্কের শাড়ির প্রতিশ্রুতি । লীলাবতীও লুকিয়ে কোনির সাঁতার দেখতে গেছে আর পেছনে থেকে কোনির সাফল্যের জন্য সাধ্যমতো সাহায্য ও সমর্থন জুগিয়ে গেছে । লীলাবতী চরিত্রটির এই নিজস্বতা পাঠককে মুগ্ধ করে । 

   ক্ষিতীশ বিশ্বাস করেন বাঙালিয়ানা রান্নায় স্বাস্থ্য চলে না । ওতে পেটের চরম সর্বনাশ হয় । তিনি প্রায় সবই সেদ্ধ খাওয়ায় বিশ্বাসী । কারণ সেদ্ধ খাবারেই খাদ্যপ্রাণ অটুট থাকে এবং সর্বাধিক প্রোটিন ও ভিটামিন পাওয়া যায় । তাই লীলাবতী প্রথমদিকে সরষে বাটা , শুকনো লঙ্কা বাটা , জিরে – ধনে পাঁচফোড়ন প্রভৃতি বস্তুগুলি রান্নায় ব্যাবহারের সুযোগ না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল ।

67. ‘ জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছে আমার কাছে কোনির এই অভিমানের কারণ কী ? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করো

Ans: ‘ কোনি ‘ উপন্যাস জুড়ে দেখা যায় , এক প্রতিভাবান সাঁতারুকে বারবার কেমন নির্লজ্জ চক্রান্তের শিকার হতে হয় । একদল লোভী , স্বার্থপর ও মুখ কর্মকর্তার অন্ধ – বিদ্বেষের ফলে কোনি কখনও বাইরের জলে সাঁতরায় , কখনও ডিসকোয়ালিফায়েড হয় আবার কখনও প্রথম হয়েও স্বীকৃতি পায় না । এভাবেই কোনোক্রমে হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসের তৎপরতায় , সে অবশেষে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজগামী বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পায় । কিন্তু একই ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে কোনির স্থান হয় দর্শকাসনে । তবে শেষ রিলে ইভেন্টের আগে অমিয়া অসুস্থ হওয়ায় তার ডাক পড়ে , তখন সে দুঃখ ও অভিমানে হিয়া মিত্রের উদ্দেশে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করে । → রমা যোশির প্রায় তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে পড়ে । প্রথম তিরিশ মিটার খুব একটা কিছু বোঝা না গেলেও , তারপরেই দর্শকেরা টের পায় আজ একটা কিছু ঘটতে চলেছে । নিজের সমস্ত দুঃখ – যন্ত্রণা – বেদনা ও অপ্রাপ্তিকে কোনি জলের মধ্যে উজাড় করে দেয় । জলের মধ্যে কালো প্যান্সারের মতো এগিয়ে চলা কোনিকে অশরীরী বলে মনে হয় । সে যেন অন্ধকারের যন্ত্রণা ছিঁড়ে মাকে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়া শিশুর মতো ; 

  রমা যোশির আগেই হাত দিয়ে বোর্ড স্পর্শ করে । তারপর জল থেকে উঠে সকলের অভিনন্দন আর আদরে কোনি ডুবে যেতে থাকে । তখন পরাজিত রমা যোশির ক্লান্ত হাত তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে যায় । এভাবেই কোনির সমস্ত যন্ত্রণার অবসান ঘটে ।

68. ‘ জাতির নৈতিক চরিত্র সুগঠিত না হলে সেই জাতির পক্ষে খেলাধূলায় উন্নতিসাধন অসম্ভব ’— কোনি উপন্যাসে কীভাবে এই মন্তব্যকে সমর্থন করে , তা আলোচনা করো পরবর্তী ঘটনা অথবা , লড়াকু অনুপ্রেরণামূলক উপন্যাস হিসেবে কোনি তোমার মনকে কতটা স্পর্শ করেছে আলোচনা করো

Ans: মতি নন্দীর ‘ কোনি ‘ উপন্যাসের শুরুতেই গঙ্গার ঘাটে বিচরণ ধর ও ক্ষিতীশ সিংহের সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক সুকৌশলে শরীরের ওপর মনের নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনে শারীরিক সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধনের প্রয়োজনীয়তার কথাটি বুঝিয়ে দেন । অর্থাৎ সাঁতার অন্ত প্রাণ ক্ষিতীশের নৈতিক চরিত্র যে ত্যাগ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনাদর্শকে তুলে ধরে ; পাঠক শুরুতেই সেই ইঙ্গিত পেয়ে যায় । এরপর ক্ষিদা লড়াকু , অনমনীয় ও একগুঁয়ে কোনির মধ্যে এক লুকিয়ে থাকা চ্যাম্পিয়নের চরিত্র লক্ষণ খুঁজে পান । যে হারতে জানে না । ক্ষিতীশ সিংহ নিজেও কোনো পরিস্থিতিতেই  ‘ হাল ছাড়া ‘ – য় বিশ্বাস করে না । আর এজন্য তিনি ছাত্রের কাছে সম্পূর্ণ নিষ্ঠা এবং আত্মনিবেদন প্রত্যাশা করেন । কারণ আলস্য – শৈথিল্য খেলোয়াড়ের জীবনে ডেকে আনে সর্বনাশ । পৃথিবীর সমস্ত শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ তাদের চরিত্রের সংযম – ত্যাগ – নিষ্ঠা ও সাহসে ভর করেই সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেছে । তাই কোনির উত্থান , ক্ষিতীশের শক্ত হাতে প্রশিক্ষণ , কঠোর অনুশীলন ও কোনির অপ্রতিহত লড়াকু মানসিকতা ; এ উপন্যাসে বারবার ঘুরে – ফিরে আসে । ক্ষিতীশ আর কোনি তাদের জীবনের সমস্ত অপ্রাপ্তি , অপমান , অশ্রু ও ক্ষোভকে জীবনের দিশা – পরিবর্তনকারী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগায় । তারা ব্যক্তিগত অসম্মান আর আক্রমণের যন্ত্রণাকেই জীবনে এগিয়ে চলার রসদে রূপান্তরিত করে । আর তা সম্ভব হয়েছে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং লড়াকু মনোভঙ্গির কারণেই । এভাবেই এক সত্যিকারের গুরুর সুযোগ্য শিষ্যা , আমাদের কাছে উন্নত নৈতিক চরিত্র ও অন্তহীন প্রচেষ্টার মহৎ – শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তকে তুলে ধরে ।

69. ‘ জুপিটার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে , তারই শোধ নিল কাকে , কেন জুপিটার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ? সে কীভাবে তার শোধ নিল ? 

Ans: প্রথম অংশের জন্য 57 নং প্রশ্নের উত্তরের দ্বিতীয় অংশ দ্যাখো ।

   ← জুপিটার ক্লাবের প্রতিযোগিতায় অন্যায়ভাবে কোনির ‘ এন্ট্রি রিফিউজ করা হয় । এর উপযুক্ত জবাব দিতে প্রতিযোগিতার শেষ দিন জুপিটারের কোনির মধ্য দিয়ে প্ল্যাটফর্মে এসে সাঁতারুরা দাঁড়াতেই , কোনি ঠিক ক্ষিতীশের অপমানের তার পাশেই অ্যাপোলোর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় । গোটা কমলদিঘি এমন আশ্চর্য ঘটনায় উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে পড়ে । শেষে কোনি যখন মসৃণ – স্বচ্ছন্দ কিন্তু হিংস্র ভঙ্গিতে ফিনিশিং বোর্ড ছোঁয় , তখনও অমিয়া অনেক পিছনে । এমন ঘটনায় নির্ভেজাল আনন্দ পেয়ে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে একজন প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি করে ।

*There will be much more sections divided into the above syllabus which will be told in Live Session

You can buy our Courses:            

  • 10th & 12th Exam Preparation
    • JEE / NET Preparation
      • Govt. Job Preparation
      • Engineering Courses
      • Computer Courses

The session will be conducted on “Cademy” Mobile App.

                    

Do Subscribe our YouTube Channel for Free Classes:  @cademyindia

Contact for any Support :              Cademy India Pvt. Ltd.

support@cademy.in

+91-94751 39002

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.